বিশ্ববাজারে গত জুনে খাদ্যপণ্যের দাম সামান্য কমেছে। মূলত চাল, চিনি ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমায় সামগ্রিক সূচকে পতন দেখা গেছে।
তবে ভোজ্যতেল ও মাংসের দাম বাড়ায় এ হ্রাসের গতি ছিল ধীর। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে মাসিক ভিত্তিতে দাম কমলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিশ্ববাজারে এখনো খাদ্যপণ্যের দাম বেশি। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ ও আনাদোলু এজেন্সি।
আন্তর্জাতিক বাজারে কেনাবেচা হওয়া খাদ্যপণ্যের মাসিক দাম তদারকি করে এফএও। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে বিশ্ব খাদ্য মূল্যসূচক ছিল গড়ে ১৩০ দশমিক ৩ পয়েন্ট। এটি মে মাসের তুলনায় দশমিক ৩ শতাংশ কম। তবে গত বছরের জুনের তুলনায় এ সূচক ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য কেনার খরচ এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে।
এফএওর বাণিজ্য ও বাজার বিভাগের পরিচালক বুবাকের বেন-বেলহাসেন বলেন, ‘বিশ্ববাজারে সামগ্রিক মূল্যসূচক সামান্য কমলেও একক পণ্যগুলোর বাজার ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির কারণে ভিন্ন আচরণ করছে। বর্তমানের এ চরম অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিবেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ বাজার ও নিরবচ্ছিন্ন বৈশ্বিক বাণিজ্য খুবই জরুরি।’
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের তুলনায় জুনে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক কমেছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। মূলত কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে ভালো ফলন এবং দ্রুত ফসল কাটার কারণে বিশ্ববাজারে গম ও ভুট্টার দাম বেশ কমেছে। জুনে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ভুট্টার দাম ৬ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। বিশ্ববাজারে চালের মূল্যসূচক জুনে ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এশিয়ায় চালের চাহিদা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে মূলত চালের দাম বেড়েছে।
ভোজ্যতেলের বাজারে দরবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মে মাসের তুলনায় জুনে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। পাম তেল ও সরিষার তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মূলত সামগ্রিক তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। অন্যদিকে মাংসের মূল্যসূচক দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। উৎপাদন সামঞ্জস্য করার কারণে বাজারে মুরগির মাংসের সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে যাওয়ায় এর দাম বেড়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম কিছুটা কমেছে।
দুগ্ধজাত পণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক আগের মাসের চেয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। গুঁড়া দুধ ও মাখনের দাম কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পনিরের দাম টানা ১১ মাসের মতো হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া ব্রাজিলে স্থানীয়ভাবে ইথানলের দাম কমা এবং দেশটির মুদ্রা রিয়ালের বিনিময় হার কমার কারণে বিশ্ববাজারে চিনির মূল্যসূচক কমেছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে ভারত ও থাইল্যান্ডে এল নিনোর প্রভাবে চিনি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় চিনির দাম এর চেয়ে বেশি কমেনি।
এদিকে জলবায়ুজনিত সংকট ও বিভিন্ন দেশের চলমান যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে বিশ্বের ৪১টি দেশে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। এফএওর এক পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের ৪১টি দেশ ও অঞ্চলের এখন খাদ্যসহায়তার প্রয়োজন, যার মধ্যে ৩১টি দেশই আফ্রিকার। এল নিনো আবহাওয়ার কারণে পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা এসব অঞ্চলের মানুষকে তীব্র খাদ্য ঝুঁকিতে ফেলছে।
এ জাতীয় আরো খবর..