✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১১, | ২৩:৩৬:০০ |বিশ্বকাপের ময়দানে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স যেন নতুন করে প্রমাণ করছে যে ফুটবলের ইতিহাসে তিনিই সর্বকালের সেরা। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে তিনি আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলকে নিয়ে গেছেন নকআউট পর্বের শেষ প্রান্তে। মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, তখন মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সই দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে এবং নাটকীয়ভাবে ৩-২ গোলের জয় এনে দেয়। এই ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি একটি গোল করানোর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে গোল এবং অ্যাসিস্ট করার ক্ষেত্রে মেসি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন। তিনি এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের শীর্ষ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী হিসেবে ডিয়াগো ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে গেছেন। তবে মাঠের অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাঝেও মেসির জন্য একটি অস্বস্তিকর রেকর্ড সঙ্গী হয়েছে, যা ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সেটি হলো পেনাল্টি থেকে গোল করতে গিয়ে তার বারবার ব্যর্থ হওয়া।
মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পেয়েছিল, কিন্তু মেসি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তার দুর্বল শটটি মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবায়ের সহজেই রুখে দেন। এটি ছিল এই টুর্নামেন্টে মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড় এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন, এমন ঘটনা আগে কখনোই ঘটেনি।
ম্যাচ শেষে নিজের এই ব্যর্থতা নিয়ে মেসি যথেষ্ট আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং জানান যে, পেনাল্টি মিস করার কারণে তিনি মনে করেছিলেন দলের প্রতি অবিচার করেছেন। তবে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসির প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। স্কালোনির মতে, মেসি যদি পেনাল্টি নিতে চান, তবে তিনিই নেবেন। আর্জেন্টিনা দলে লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার বা এনজো ফার্নান্দেজের মতো নির্ভরযোগ্য পেনাল্টি শুটার থাকা সত্ত্বেও কোচ অধিনায়কের ওপরই ভরসা রাখছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, মেসির পেনাল্টি রূপান্তরের হার তার ক্যারিয়ারের অন্যান্য দক্ষতার তুলনায় কিছুটা কম। তার পেনাল্টি মিস করার প্রবণতাকে অনেকেই অদ্ভুত মনে করছেন, কারণ ওপেন প্লে বা খেলার স্বাভাবিক ছন্দে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফিনিশার। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসির খেলার ধরন মূলত স্বতঃস্ফূর্ত এবং উদ্ভাবনী, যেখানে পেনাল্টি শট নেওয়ার জন্য একঘেয়ে এবং নির্দিষ্ট ছক মেনে চলা প্রয়োজন, যা হয়তো তার স্বাভাবিক খেলার সাথে কিছুটা সাংঘর্ষিক।
আধুনিক ফুটবলে ভিডিও বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে গোলরক্ষকরা পেনাল্টি নেওয়ার আগেই খেলোয়াড়দের কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যান। ফলে মেসি যখন পেনাল্টির সময় গোলরক্ষকের নড়াচড়ার জন্য অপেক্ষা করেন, তখন অনেক সময় তাকে চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়, যা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। হ্যারি কেইন বা রবার্ট লেভান্দোভস্কির মতো যারা নির্দিষ্ট কৌশলে পেনাল্টি নেন, তাদের তুলনায় মেসির এই পদ্ধতিটি এখন কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আর্জেন্টিনার সামনে এখন বিশ্বকাপের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো আরও কঠিন হতে যাচ্ছে। প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বাড়ছে এবং পেনাল্টি থেকে গোল মিস করার মতো ছোট ভুলও দলের বিদায়ের কারণ হতে পারে। যদিও মেসি দলের অন্য খেলোয়াড়দের চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ, তবুও টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্বটি অন্য কাউকে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখন গুরুতর আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিবিসির বিশ্লেষণ