প্রিন্স হ্যারির যুক্তরাজ্য সফরে একের পর এক বিপত্তি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-১১, | ১৩:২১:৫৩ |

বহুদিন পর যুক্তরাজ্য সফরে এসে প্রিন্স হ্যারি চেয়েছিলেন বিশ্বের নজর আবারও তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘ইনভিকটাস গেমস’-এর দিকে ফেরাতে। ধারণা করা হয়েছিল, এই সফরেই প্রায় চার বছর পর প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ জনসমক্ষে উপস্থিত হবেন তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। কিন্তু প্রত্যাশার ঠিক উল্টো চিত্রই দেখা গেল।

একের পর এক বিতর্ক, আদালতে আইনি পরাজয়, সফরের নানা জটিলতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় বিভ্রান্তির কারণে শেষ পর্যন্ত হ্যারির এই সফর আলোচনায় এলেও আড়ালে পড়ে যায় তার দাতব্য উদ্যোগ ও ইনভিকটাস গেমসের প্রচারণা।

প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন আর হলো না
প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, লন্ডন ও বার্মিংহামে ইনভিকটাস গেমস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে জানানো হয়, তিনি যুক্তরাজ্যে কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না। ফলে চার বছর পর ব্রিটিশ জনতার সামনে তার প্রত্যাবর্তনের যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, সেটিরও অবসান ঘটে।

তবে সফরের শেষদিকে রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলার সঙ্গে হ্যারি, মেগান এবং তাদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেটের একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বাকিংহাম প্যালেস এ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কোনও ছবি প্রকাশ করা হয়নি এবং বিস্তারিত তথ্যও জানানো হয়নি। ফলে এ সাক্ষাতও জনমতের আলোচনার মোড় ঘোরাতে পারেনি।

শুরু থেকেই জটিলতা
হ্যারির সফর শুরুর আগেই তার আবাসন নিয়ে বাকিংহাম প্যালেস ও সাসেক্স শিবিরের মধ্যে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশ পায়।

কোথায় তিনি অবস্থান করবেন, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দেয়। এতে রাজপরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন আবারও আলোচনায় উঠে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ সফরের শুরুতেই ইতিবাচক পরিবেশ নষ্ট করে দেয়।

আদালতের রায়ে বড় ধাক্কা
সফরের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক ঘটনা ঘটে ইনভিকটাস গেমসের প্রথম আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের দিন।

প্রিন্স হ্যারি যখন মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে ডেইলি মেইল-এর প্রকাশক অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপার্স-এর বিরুদ্ধে করা তার সব আইনি দাবি আদালত খারিজ করে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক ও অতিথিদের মোবাইল ফোনে মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।

ফলে ইনভিকটাস গেমসের উদ্বোধনী আয়োজনের চেয়ে আদালতের রায়ই সংবাদমাধ্যমের প্রধান আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে হ্যারির নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়। পরদিনের একটি অনুষ্ঠানেও সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ সীমিত করে দেওয়া হয়।

আড়ালে পড়ে গেল ইনভিকটাস গেমস
এই পরিস্থিতির কারণে আহত ও অসুস্থ সাবেক সেনাসদস্যদের জন্য হ্যারির প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ইনভিকটাস গেমস-এর প্রচারণা অনেকটাই চাপা পড়ে যায়।

অথচ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল এই আয়োজনকে সামনে আনা।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত ও আইনি বিতর্ক শেষ পর্যন্ত হ্যারির মানবিক উদ্যোগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়ে যায়।

বার্মিংহামে ভিন্ন এক হ্যারি
তবে বার্মিংহামের ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত ইনভিকটাস গেমসের অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে দেখা যায় প্রিন্স হ্যারিকে।

প্রতিযোগী, স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান তিনি। সবার সঙ্গে কথা বলেন, আলিঙ্গন করেন, ছবি তোলেন এবং বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমেও অংশ নেন।

অনেকের কাছে ইনভিকটাস পরিবার যেন হ্যারির ‘দ্বিতীয় পরিবার’। সেখানে তাকে ঘিরে ছিল উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক ভালোবাসা।

তিনি ব্রিটিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে ইনভিকটাস গেমসের জন্য তৈরি নতুন একটি বিশেষ সংকেতও ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

হারানো সম্ভাবনার আক্ষেপ
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে এই সফর প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের জন্য জনমনে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার একটি বড় সুযোগ হতে পারতো।

বিশেষ করে মেগানের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং ইনভিকটাস গেমসকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক প্রচারণার সুযোগ ছিল।

কিন্তু ধারাবাহিক বিতর্ক, আদালতের রায়, সফরের নানা অনিশ্চয়তা এবং জনসংযোগ কৌশলের দুর্বলতার কারণে সেই সম্ভাবনা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি।

ফলে সফরের শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিভ্রান্তি, বিতর্ক এবং হারিয়ে যাওয়া এক সম্ভাবনার গল্প; আর আড়ালেই থেকে গেছে যুদ্ধাহত সেনাসদস্যদের জন্য প্রিন্স হ্যারির বহুদিনের মানবিক উদ্যোগ ইনভিকটাস গেমস। সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..