ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাজ্যে বাড়ির দাম বাড়ল

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৯, | ১৪:৩৫:৫১ |
যুক্তরাজ্যে আবাসন খাতে মন্দাভাব কাটিয়ে বাড়ির দাম ফের বাড়তে শুরু করেছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার বাড়ির দাম বাড়ল দেশটিতে। একটি সাম্প্রতিক জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তবে দাম বাড়লেও তা বছরের শুরুর দিকের তুলনায় এখনো কিছুটা কম। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

লয়েডস হাউজ প্রাইস ইনডেক্সের তথ্যানুযায়ী, জুনে যুক্তরাজ্যে একটি সাধারণ বাড়ির গড় দাম ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার ৩৩০ পাউন্ড। মে মাসের তুলনায় জুনে এ দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে মে মাসে বাড়ির দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

বার্ষিক বৃদ্ধির হিসাবে দেখা যায়, মে মাসে যেখানে প্রবৃদ্ধি ছিল দশমিক ৫ শতাংশ, জুনে তা বেড়ে দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর জুনেই প্রথম বাড়ির দাম বাড়ল। ফেব্রুয়ারিতে গড় দাম ছিল ৩ লাখ ১ হাজার ৫১ পাউন্ড এবং জানুয়ারিতে ছিল ৩ লাখ ২৮৩ পাউন্ড।

লয়েডসের মর্টগেজ বিভাগের প্রধান আমান্ডা ব্রাইডেন জানান, সাম্প্রতিক দামের ওঠানামা সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে প্রকাশ করে। বৈশ্বিক বিভিন্ন ঘটনা মূল্যস্ফীতি ও সুদহারের ওপর প্রভাব ফেলছে। ক্রেতাদের জন্য এখনো বাড়ি কেনা বেশ কঠিন। তবে গৃহঋণের সুদহার আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

তেহরানে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর চার মাসব্যাপী যুদ্ধ শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য আলোচনা করছে। যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে অনেক বেড়ে যায়। ফলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদহার কমাতে পারে, এমন পূর্বাভাসের বদলে সুদহার আরো বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বর্তমানে তেলের দাম কমে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে। গতকাল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭২ ডলারে বিক্রি হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। হরমুজ প্রণালি ফের খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে আটকে থাকা তেলের ট্যাংকারগুলো যাতায়াত করতে পারছে। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে যারা প্রথমবার বাড়ি কিনছেন, তাদের বাজারে চাহিদা বেশ ইতিবাচক।

ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আমান্ডা ব্রাইডেন জানান, আবাসন বাজার এখন ধীর, কিন্তু স্থিতিশীল গতিতে এগোবে। ঋণ নেয়ার খরচ কমলে বাজারে চাহিদা আরো বাড়তে পারে। তবে মানুষের সাধ্যের বিষয়টি এখনো বড় একটি বাধা। আগামী দিনে বাড়ির দাম কেমন হবে, তা নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতি কতটা কমছে ও সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাস কতটা ফিরছে তার ওপর।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..