ফ্রান্স বধ করে মরক্কো কি পারবে সেই ক্ষত ঘোচাতে?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৯, | ১৪:৩৩:০৩ |

২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ঐতিহাসিক পথচলার পর যে বুকভাঙ্গা বেদনা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল, মরক্কোর সামনে এখন সেই স্মৃতিকে পেছনে ফেলার দারুণ সুযোগ। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাটলাস লায়ন্সদের সামনে আবারও সেই একই প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। অথচ চার বছর আগের কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। কিন্তু থিও হার্নান্দেজ আর রানডাল কোলো মুয়ানির গোলে ফ্রান্সের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে শেষ হয়েছিল তাদের সেই স্বপ্নযাত্রা। এবার আবারও ফুটবলবিশ্বে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার মঞ্চে দাঁড়িয়ে মরক্কো, তবে অতীতের সেই ভূতকে কোনোভাবেই বর্তমানের ওপর ভর করতে দেওয়া যাবে না।

ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর অতীত রেকর্ড খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। ১৯৮৮ সালে প্রথম মুখোমুখি হওয়ার পর ১৯৯৯ ও ২০০০ সালের প্রীতি ম্যাচেও ফরাসিমাত্রাই শেষ হাসি হেসেছিল। মাঝে ১৯৯৮ ও ২০০৭ সালে দুটি ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হলেও ২০২২ সালের সেই সেমিফাইনাল ম্যাচটিই মরক্কোর বুকে সবচেয়ে বড় ক্ষত হয়ে আছে। স্পেন ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে বিদায় করে ফাইনালের দোরগোড়ায় পৌঁছেও থমকে যেতে হয়েছিল তাদের।

কাতারের সেই সেমিফাইনালের স্কোয়াড থেকে মাত্র সাতজন খেলোয়াড় এবারের ২০২৬ দলে জায়গা পেয়েছেন। পুরোনো সেই ক্ষত এখনো সতেজ হলেও দলের অভিজ্ঞ ফুটবলারদের উচিত এটিকে হতাশার কারণ না বানিয়ে বরং শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা। বিশ্বমঞ্চে বড় দলগুলোর সাথে লড়াই করার সামর্থ্য তাদের রয়েছে, তা তারা বারবার প্রমাণ করেছে।

বিগত সেমিফাইনাল থেকে মরক্কোর জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল ম্যাচের শুরুতেই খেই না হারানো। ২০২২ সালের সেই ম্যাচে মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল মরক্কো, যার ফলে বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা কাউন্টার-অ্যাটাকিং দলের বিপক্ষে শুরু থেকেই তাদের রক্ষণভাগ ছেড়ে আক্রমণে উঠতে বাধ্য হতে হয়েছিল। ফ্রান্সের ভয়ংকর আক্রমণভাগকে আটকে রাখা মোটেও সহজ নয় তবে অ্যাটলাস লায়ন্সরা যত বেশি সময় ফরাসিদের গোল করা থেকে বিরত রাখতে পারবে, তাদের জয়ের সম্ভাবনা তত বাড়বে। গতবার ম্যাচের শুরুতেই গোল পেয়ে ফ্রান্স নিজেদের ইচ্ছেমতো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার এবং শেষে কাউন্টার-অ্যাটাকে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল। এবার মরক্কো ভালো করেই জানে, আক্রমণভাগের ধার বাড়ানোর পাশাপাশি ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের পক্ষে আনতে হলে ধৈর্য আর রক্ষণভাগের কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..