✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৮, | ১১:২৯:০৮ |ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের হাতে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত।
তুরস্কে উত্তর আটলান্টিক জোটের শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের এই মন্তব্য মিত্র দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ডেনমার্ক ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার দাবি, এই ইস্যু উত্তর আটলান্টিক জোটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের উন্নয়ন ও সহায়তায় যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করে না। তার ভাষায়, অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের আশপাশে চীন ও রাশিয়ার জাহাজের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয় এবং তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ডেনমার্ককে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোপেনহেগেন সহযোগিতা করছে না বলেও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আঙ্কারায় দেওয়া এক বক্তব্যে এর জবাব দেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলোর উচিত ডেনিশ রাজ্যের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা।
ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পেতে চায়—এটি তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান। তবে এমনটি কখনোই ঘটবে না।’
তিনি আরও জানান, উত্তর আটলান্টিক জোটের শীর্ষ সম্মেলনে সুদূর উত্তরাঞ্চল, উত্তর মেরু অঞ্চল বা গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
এদিকে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুতে এগেদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল এখানকার জনগণ। সব সময় এমনই ছিল এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।’ একই সঙ্গে তিনি সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ বা অধিগ্রহণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন নয়। গত জুন মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে প্রতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে। সর্বশেষ ট্রাম্পের এই মন্তব্যে বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সূত্র : রয়টার্স।