সাইপ্রাসে নিখোঁজের ৯ দিন পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৬-২৩, | ১১:০১:৩৭ |

সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়ার নয় দিন পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। রোববার লারনাকা জেলার কোফিনু এলাকার একটি স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গত ১২ জুন নিখোঁজ হওয়ার দিন রাতেই ইমনকে হত্যা করা হয়েছিল।

নিহত ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাখরনগর এলাকার বাসিন্দা এবং সাইপ্রাসের লারনাকা জেলার ওরোক্লিনি এলাকায় বসবাস করতেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ১২ জুন একটি কারখানায় প্রথম কর্মদিবসে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হন তিনি। ব্যক্তিগত যানবাহন না থাকায় বাসযোগে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।

সেদিন রাতেই তিনি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান পাঠান এবং গ্রিসে অবস্থানরত বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে একটি বার্তা পাঠান। এরপর থেকেই তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

নিখোঁজের পরদিন থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ইমনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে। তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যার পর অপহরণের নাটক সাজিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল।

ইমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান কোফিনু এলাকায় শনাক্ত হওয়ার পর পুলিশ, সিআইডি ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ এবং বাস রুট বিশ্লেষণ করে অভিযান চালান। পরে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন ব্যক্তি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বাসে ভ্রমণের সময় ইমনের সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় হয়েছিল। অভিযুক্ত দাবি করেছে, পূর্বের একটি ঘটনার জেরে প্রতিশোধ নিতে সে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে পুলিশ মনে করছে, হত্যার পেছনে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে ফরেনসিক বিভাগ। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সাইপ্রাসের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..