সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুসংবাদ বা মানবিক বিপর্যয়ের পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা বা শোকাবহ ঘটনার সংবাদে শোক ও সমবেদনার পাশাপাশি অনেক সময় বিদ্রূপাত্মক ‘হা হা’ প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে, যা ডিজিটাল সহমর্মিতার সংকটকে সামনে আনছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগ প্রকাশের জন্য বিভিন্ন রিঅ্যাক্ট ফিচার চালু থাকলেও এর অপব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে মৃত্যু বা বিপর্যয়ের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় ভুল বা ইচ্ছাকৃতভাবে হাসির প্রতিক্রিয়া দেওয়া সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনলাইন পরিবেশে মানুষের আচরণ বাস্তব জীবনের তুলনায় ভিন্ন হয়ে যায়। পর্দার আড়ালে থাকা পরিচয় এবং তাৎক্ষণিক সামাজিক প্রতিক্রিয়ার অভাব অনেক সময় সহানুভূতির ঘাটতি তৈরি করে। একে সামাজিক বিজ্ঞানে ‘অনলাইন ডিসইনহিবিশন ইফেক্ট’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও ডিজিটাল নাগরিকত্ব ও অনলাইন আচরণবিধি সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে অনেক ব্যবহারকারী সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া উপযুক্ত, তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন না।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এই প্রবণতা শুধু অসংবেদনশীলতা নয়, বরং সাইবার বুলিংয়ের একটি রূপ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে অনেকে অনলাইনে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্রূপাত্মক প্রতিক্রিয়া ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অনলাইন অপমান ও বিদ্রূপ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আত্মসম্মানহীনতার ঝুঁকি বাড়ায়। এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে সামাজিক মেরুকরণ ও ট্রল সংস্কৃতি।
