✕


মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিতে ঝুঁকিতে পাকিস্তানের জিএসপি প্লাস সুবিধা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০৫, | ১৫:২৪:০৭ |

মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বা জিএসপি প্লাস সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে পাকিস্তান।

মঙ্গলবার দেশটির জাতীয় পরিষদের অর্থবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি সৈয়দ নাভিদ কামার এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

তবে সরকার বলছে, এ ধরনের কোনো হুমকি নেই।

এদিকে ব্যবসায়ীদের জন্য চালু করা বিশেষ কর প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে স্থায়ী কমিটি। সরকার জানিয়েছে, প্রকল্পে যোগ দেওয়া ২২২ জন ব্যবসায়ী ছাড়া অন্য ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের অনুমোদন নিতে হবে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় সাবেক অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী নাভিদ কামার বলেন, ‘আমরা এমন কিছু সংকেত পাচ্ছি, যাতে মনে হচ্ছে মানবাধিকার পরিস্থিতির কারণে জিএসপি প্লাস সুবিধা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।’

কোন নির্দিষ্ট উদ্বেগের কারণে ইইউ নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা অবশ্য উল্লেখ করেননি তিনি।

জিএসপি প্লাস হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা। এর পূর্ণরূপ হলো জেনারেলাইজড স্কিম অব প্রেফারেন্সেস প্লাস। এটি উন্নয়নশীল ও দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বেশিরভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত বা শূন্য শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুযোগ দেয়।

জিএসপি প্লাস নিয়ে ইইউর সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে পাকিস্তানে মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য ঘটনা, বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিধিনিষেধের বিষয় উঠে এসেছে।

বর্তমান প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২০২৯ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পেতে আবেদন তৈরির কাজ করছে উপপ্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি। অর্থ ও রাজস্ববিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিলাল কায়ানি স্থায়ী কমিটিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইইউর জিএসপি প্লাস বাণিজ্য সুবিধার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী পাকিস্তান। পঞ্চম জিএসপি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে দেশটির রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭৫০ কোটি ইউরো। সুবিধাভোগী দেশগুলোতে ২৭টি আন্তর্জাতিক মৌলিক কনভেনশন বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য এ সুবিধা অব্যাহত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক দশক ধরে রপ্তানিকারকদের সুরক্ষা ও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার পরও দেশটি রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

ইইউর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের নেতিবাচক প্রবণতা বন্ধে পাকিস্তানকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্লাসফেমি, সাইবার অপরাধ (পেকা), মানহানি, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং রাষ্ট্রদ্রোহসংক্রান্ত আইন সংশোধন অথবা বাতিল করা প্রয়োজন।

২০২৭ সাল থেকে সংশোধিত জিএসপি বিধিমালা কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য কয়েকটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে ইইউ। এর মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নির্যাতন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ, কারাগার ও মৃত্যুদণ্ডসংক্রান্ত সংস্কার এবং জোরপূর্বক গুম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নেতিবাচক পরিস্থিতির অবসান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণকালে জিএসপি প্লাসের শর্ত পূরণে পাকিস্তান বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে দেশটির অগ্রগতি না হয়ে বরং অবনতি হয়েছে, আর ইতিবাচক পরিবর্তন ছিল সীমিত।

বৈঠকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) জাতীয় পরিষদ সদস্য ড. নাফিসা শাহ ইরান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রাখার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর ফলে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে পাকিস্তানের রপ্তানি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা জানতে চান তিনি। জবাবে বিলাল কায়ানি বলেন, ‘মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়েছে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ায় আমরা আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করেছি।’ মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তানের (এমকিউএম-পি) জাতীয় পরিষদ সদস্য জাভেদ হানিফ বলেন, চীন ও ভারতের মধ্যে বিরোধ থাকলেও দেশ দুটি নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বন্ধ করেনি।

তথ্যসূত্র: দ্যা এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..