✕


লাল পাহাড়ে মিষ্টি কমলার সুবাস

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০৫, | ১৫:২০:৪৫ |

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়। পাহাড়ের সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমতি গ্রাম। গ্রামের উত্তর পাড়া যেন একখণ্ড দার্জিলিং। এখানে পাহাড়ের গায়ে ভাসছে মিষ্টি কমলার সুবাস। এখানে সাড়ে ৭ একর জমিতে কমলা,মাল্টা , আম, লিচু, কলা লেবু, লটকন ও রাম্বুটানসহ বিভিন্ন ফলের চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে এক একর জমিতে করা হয়েছে দার্জিলিং কমলার চাষ।

কুমিল্লা জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রথমবারের মতো এইখানে কমলার চাষ করা হয়েছে। এই চাষ করেছেন এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা মো. তাজুল ইসলাম। গতবছর তিনি এই বাগান থেকে এক টন কমলা পেয়েছেন। এবার তিন টন কমলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। এই বাগানে কমলার ভালো ফলনে এলাকায় শোরগোল পড়ে গেছে। স্থানীয়রা লাইন ধরে কমলার বাগান দেখতে আসছেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বেলতলী বিশ্বরোড থেকে থেকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে লালমতি উত্তর পাড়ার পাহাড়। শেষ বিকালের আলো পাহাড় ও সমতলে চাষ করা বাগানে মিষ্ট আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। সারি সারি করে লাগানো কমলা বাগান। গাছে গাছে ঝুলছে লাল সবুজ কমলা। বাতাসে ভাসছে কমলার মিষ্টি ঘ্রাণ। প্রথম দেখায় মনে হবে দার্জিলিংয়ের কোন বাগান।

হাত বাড়িয়ে কমলা ছিঁড়ে খোসা খুুলে খেতে দেখা গেল স্বাদের কোন তারতম্য নেই। বাগানে সেচ দিতে পাম্প বসিয়েছেন বাগানি। পাশে বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিস সোলার চালিত সেচ পাম্পের ব্যবস্থা করেন।

বাগানের সহকারী গাছের অপ্রয়োজনীয় ডালপাতা কেটে দিচ্ছেন। বাগানি প্রাথমিকভাবে কিছু ফল তুলছেন। কয়েকদিন পরে বাজারজাত করবেন। বাগানে উপজেলা কৃষি অফিসার জোনায়েদ কবির খান ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ফল ঝরে পড়া রোধে পরামর্শ দিচ্ছেন।

উদ্যোক্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এই জায়গাটিতে আমরা বিচ্ছিন্নভাবে ফল ও সবজি চাষ করতাম। ২০২২সালে আম্মা বললেন-এখানে পরিকল্পনা নিয়ে চাষ করলে ভালো আয় আসবে। সেই থেকে আপেল,মাল্টা ও লিচুসহ বিভিন্ন ফলের চাষ করছি। ২০২৫ সাল থেকে ফল আহরণ শুরু করি। গতবার ৭টন মাল্টা ও ১টন কমলা পেয়েছি। এবার ৩ টন কমলা পাওয়ার আশা করছি। স্থানীয় পাইকারি ক্রেতারা কমলা ক্রয়ের জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বাগানে গাছে গাছে ঝুলন্ত কমলা দেখলে চোখ ঝুড়িয়ে যায়। অনেকে বাগান দেখতে আসছেন, তারাও কমলা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক কামাল হোসেন ও আবদুল আলী বলেন,আমাদের এলাকায় পাহাড়ে কাঁঠাল,কচুরচড়া ও সবজির চাষ হতো। এই প্রথম তাজুল ইসলাম কমলার চাষ করেছেন। ফল দেখে মনে হচ্ছে তিনি মরা পাহাড়ে জাদু দেখিয়েছেন।

সদর দক্ষিণ উপজেলা কৃষি অফিসার জোনায়েদ কবির খান বলেন, এখানে লেবু জাতীয় ফসলের ভালো ফলন হয়। তাজুল ইসলাম একজন সাহসী কৃষক। তিনি বাগানে দার্জিলিং কমলা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তাকে দেখে অন্যরা অনুপ্রেরণা নিতে পারে। তার ফলন দেখে মনে হচ্ছে তার হাত ধরে লালমাই পাহাড়ে কমলার চাষ আরও ছড়িয়ে যাবে। আমরা তাকে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..