✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০৫, | ১৫:০৫:০২ |সিরিয়ার প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করা এবং দেশটির পুনর্গঠনে সহায়তার লক্ষ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে একাধিক চুক্তি সই করেছে সিরিয়া। এর মধ্যে দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি অন্যতম। পাশাপাশি সিরিয়ার জ্বালানি, আবাসন, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে ৪০ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রিয়াদ।
বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সফরকালে এসব চুক্তি সই হয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকের পর চুক্তিগুলো সম্পন্ন হয়। এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে এটি ছিল আল-শারার দ্বিতীয় সৌদি আরব সফর।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তিকে অন্য চুক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে এতে কী ধরনের সহযোগিতা থাকবে কিংবা চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্ত কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি জানিয়েছিলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রস্তাবিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে দামেস্ক। শনিবার বাহরাইনে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তাবিষয়ক সম্মেলন মানামা ডায়ালগে তিনি বলেন, ‘মক্কা জোটে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি মূল্যায়নে বর্তমানে আলোচনা চলছে।’
অন্যদিকে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুই ধরনের সহায়তা পেতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সৌদি আরব। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক বাহিনীর সঙ্গে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতে জড়িত রয়েছে হুথিরা। অতীতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, রিয়াদে বৈঠকে আহমেদ আল-শারা ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেন।
এ সময় উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি বিরোধগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তারা। একই সঙ্গে লোহিত সাগর, বাব আল-মানদেব ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে, এমন সব কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান সৌদি ও সিরীয় নেতা।
এদিকে আল-শারার সফরকে কেন্দ্র করে সিরিয়ার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট সিরিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ছয়টি চুক্তির আওতায় ৪০ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহজ শর্তে এসব ঋণ দেওয়া হবে।
ঘোষিত ঋণের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে ১০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত আবাসন মেরামতে ৬ কোটি ডলার, বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার, আলেপ্পোর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পুনর্বাসনে ৯ কোটি ডলার এবং দামেস্ক ও ইদলিবে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা উন্নয়নে ৩ কোটি ডলার দেওয়া হবে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে শিল্প খাতে সমন্বয় বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে দুই দেশ। পাশাপাশি কৃষি ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে আরও দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ার ক্ষমতায় আসেন আহমেদ আল-শারা। এরপর থেকেই দেশটির নতুন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে ভূমিকা পালন করছে সৌদি আরব।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর রিয়াদে দুই নেতার সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সিরিয়ার প্রেসিডেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছিল।
সূত্র: আল-জাজিরা।