✕


নতুন মন্ত্রণালয় নিয়ে বিতর্ক, আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে নজিরবিহীন তাণ্ডব

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-৩১, | ১৪:৩৪:৪৬ |

আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে প্রস্তাবিত ‘যৌন মন্ত্রণালয়’ নিয়ে বিতর্কের জেরে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে হাতাহাতি, ঘুষাঘুষি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবারের এ সংঘর্ষে কয়েকজন এমপির পোশাক ছিঁড়ে যায়, কেউ কেউ আহতও হন।

বিরোধী দল স্ট্রং আর্মেনিয়া পার্টি চলতি বছরের শুরুতে দেশে একটি নতুন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দলটির দাবি ছিল, এর মাধ্যমে দেশে ‘কোনও নারীকে অসন্তুষ্ট থাকতে হবে না’। মধ্যবয়সী শ্বেতাঙ্গ নারীদের মধ্যে যৌন অসন্তুষ্টির কারণে রাজনৈতিক সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় এমন উদ্যোগ প্রয়োজন বলে দাবি করেছিল দলটি।

বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে এ প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টির এমপি তারোন চাকোইয়ান বিরোধীদের ‘দুর্নীতিতে নিমজ্জিত’ বলে আখ্যা দেন। 

প্রস্তাবিত মন্ত্রণালয়ের জন্য নারীদের কাছে ক্ষমা চাইতে বিরোধী দলের নেতা নারেক কারাপেতিয়ানকে আহ্বান জানান তিনি। 

এ সময় কারাপেতিয়ানকে ‘মাথা থেকে পা পর্যন্ত জঞ্জাল’ বলেও কটাক্ষ করেন চাকোইয়ান। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে এমপিরা অধিবেশনকক্ষের মঞ্চের দিকে ছুটে গিয়ে একে অপরকে ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করেন। পার্লামেন্টের উপস্পিকার ও সিভিল কন্ট্রাক্টের সদস্য ভাহাগন আলেক্সানিয়ান বিরোধী এমপিদের দিকে একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন। চাকোইয়ানকে বিরোধী এমপি গার্নিক দাভতিয়ানের দিকে পানি ছুড়তেও দেখা যায়। অন্যরা বোতল ছোড়েন এবং টেবিল ভাঙচুর করেন।

প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান সহিংসতার নিন্দা জানালেও ক্ষমতাসীন দলের পদক্ষেপকে সমর্থন করেন। তার ভাষ্য, বিরোধী দলে থাকলেই কেউ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে পারেন না। এমনকি চেয়ার দিয়ে আঘাত করাকেও তিনি পরিস্থিতির সঙ্গে ‘সংগতিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন।

অধিবেশনে বিরতি ঘোষণা করা হলেও সংঘর্ষ করিডরেও ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের মাঝখানে মানবপ্রাচীর তৈরি করতে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের। পরে ছেঁড়া পোশাক ও আঘাতের চিহ্ন নিয়ে কয়েকজন এমপিকে কক্ষ ছাড়তে দেখা যায়। 

এ ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও ফৌজদারি মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য নেই বলে জানিয়েছে দেশটির কৌঁসুলির কার্যালয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার আলবেনিয়ার পার্লামেন্টেও বিরোধী এমপিরা ধোঁয়া বোমা নিক্ষেপ করে অধিবেশনের মঞ্চ অবরোধ করেন। দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেশটিতে কয়েক মাস ধরে ‘ফ্লেমিঙ্গো আন্দোলনের’ নামে বিক্ষোভ চলছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য মিরর, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..