✕


বলসোনারোকে পালাতে সহায়তা, আর্জেন্টিনার কূটনীতিককে তলব ব্রাজিলের

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-৩১, | ১৩:৫৫:৩৬ |

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর দেশত্যাগের ঘটনায় আর্জেন্টিনার শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করেছে ব্রাজিল।

প্রথমে আর্জেন্টিনায় আশ্রয় নেওয়ার পর সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান বলসোনারো। এ ঘটনায় দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আর্জেন্টিনার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মারিয়া এমিলিয়া কর্তেসকে তলব করে বলে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন ব্রাজিল সরকারের কয়েকটি সূত্র।

তবে আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কিরনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, বলসোনারোর দেশত্যাগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তাদের সরকার কোনও আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পায়নি।

রবিবার নির্বাচনে পরাজয়ের পর বলসোনারোকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। চলমান একটি অর্থপাচার মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে দেশত্যাগ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। 

অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকো মাস্টারের সাবেক প্রধান ড্যানিয়েল ভোরকারোর কাছ থেকে পাওয়া লাখ লাখ ডলার একটি চলচ্চিত্র নির্মাণে অর্থায়নের জন্য নিয়েছিলেন তিনি। তার বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে ফ্লাভিও যেকোনও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচারে নিজেকে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েস তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।

নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলসোনারো। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে পৌঁছে নিজেকে ব্রাজিলের ‘বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ বলেও দাবি করেন তিনি।

ব্রাজিল থেকে উত্তর আর্জেন্টিনা হয়ে ইকুয়েডর পেরিয়ে ভাড়া করা বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান বলসোনারো, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের এক মুখপাত্র তার এ যাত্রাকে ‘উদ্ধার অভিযান’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেইয়ের মধ্যে ২০২৩ সাল থেকেই সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। গত আগস্টে দুই দেশই নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়। বলসোনারোর দেশত্যাগ ঘিরে নতুন এই কূটনৈতিক বিরোধে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..