✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২৯, | ১৪:২৫:২৮ |গত সপ্তাহে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী দেশ কেনিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। বুধবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত কেনিয়ায় আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৩৬ হাজার। তবে ইথিওপিয়ার সোমালি ও ওরোমিয়া অঞ্চলের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের কারণে এই সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
কেনিয়ায় ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ফাতিমা মোহাম্মদ-কোল বলেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে কেনিয়ায় প্রবেশ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এখনো অনেক মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে কেনিয়ায় আসছে। তাই আশ্রয় নেওয়া মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। সোমালি ও ওরোমিয়া অঞ্চলের যৌথ শাসনাধীন শহর মোয়ালেতে গত ২০ অক্টোবর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। শহরটিতে সোমালি অঞ্চলের পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা শুরু হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে। ফাতিমা মোহাম্মদ-কোল জানান, সংঘাতের কারণে ইথিওপিয়া ছেড়ে কেনিয়ায় আশ্রয় নেওয়া মানুষের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তিনি আরো বলেন, ‘আশ্রয় নেওয়া মানুষের কেউ কেউ আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে উঠেছেন। আবার অনেকে স্কুল ও গির্জার মতো অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন।
বাস্তুচ্যুত মানুষদের সহায়তা দিতে ইউএনএইচসিআর ওই এলাকায় একটি জরুরি দল পাঠিয়েছে। কেনিয়া সরকার, রেড ক্রসসহ বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহায়তা দিচ্ছে। প্রায় ১৩ কোটি মানুষের দেশ ইথিওপিয়া আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দেশ। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাত চলছে। ১৯৯১ সালে নির্ধারিত বিভিন্ন অঞ্চলের সীমানা নিয়ে দেশটিতে প্রায়ই বিরোধ দেখা দেয়। এসব সীমান্ত এলাকা সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বেশ কয়েক বছর ধরে ইথিওপিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দুই অঞ্চল ওরোমিয়া ও আমহারায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সংঘাত চলছে। এদিকে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলার পর উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রাই অঞ্চলে আবারও লড়াই শুরু হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলেই ভয়াবহ যুদ্ধ হয়েছিল। এ ছাড়া প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধের কারণে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: আরব নিউজ