✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২৯, | ১৪:২১:২৫ |পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারীকে বরখাস্ত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। কোনো নির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একে মার্কিন সামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পদে চলমান ব্যাপক পরিবর্তন ও ছাঁটাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন।
এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বুধবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত আর্মি লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সামরিক পরিমণ্ডলে জেফাইভ নামে পরিচিত এই গুরুত্বপূর্ণ পদে হেগসেথের অধীনে এটি দ্বিতীয় পদচ্যুতির ঘটনা। এর আগে গত অক্টোবরে এই পদ থেকে তাঁর পূর্বসূরি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোসেফ ম্যাকগিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আরও জানান, সিলভিয়াকে ছাঁটাইয়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ দেখানো হয়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে এই প পদে তাঁর কোনো স্থলাভিষিক্তও ঘোষণা করা হয়নি। এই সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশ করে ‘দ্য আটলান্টিক’।
এদিকে এক বিবৃতিতে জয়েন্ট স্টাফের মুখপাত্র জানান যে, চেয়ারম্যান, জয়েন্ট স্টাফ এবং পুরো জয়েন্ট ফোর্স লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়া ও তার পরিবারের প্রতি জাতির উদ্দেশ্যে তাঁদের দীর্ঘ ৩২ বছরের অসামান্য সেবার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছে। তারা সিলভিয়া ও তার পরিবারের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি কামনা করেছে। উল্লেখ্য, সাধারণত জেফাইভ পরিচালক ও তাঁর অধীনস্থ টিমই জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান এবং প্রেসিডেন্টের সাথে সমন্বয় করে যাবতীয় সামরিক পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি ও বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখে থাকেন।
জেফাইভ বিভাগে দায়িত্ব নেওয়ার আগে ব্র্রেট সিলভিয়া ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত কেন্টাকির ফোর্ট ক্যাম্পবেলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ১০১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পূর্বে তিনি জেফাইভ বিভাগের ভাইস ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছিলেন। সম্প্রতি তাঁর অফিশিয়াল জীবনবৃত্তান্ত পোর্টালে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হেগসেথের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মেয়াদে এ পর্যন্ত অন্তত দুই ডজন জেনারেল, এডমিরাল এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসর বা অপসারণের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যার অধিকাংশেরই কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পেন্টাগন প্রকাশ করেনি। বাদ পড়া কর্মকর্তাদের মধ্যে আর্মি ও নেভির সিভিলিয়ান সেক্রেটারিদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাও রয়েছেন। বুধবার গভীর রাতে এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে হেগসেথ গত মাসে জানিয়েছিলেন যে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে তিনি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সংখ্যায় অতিরিক্ত বিশ শতাংশ হ্রাসের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮০০টি ফ্ল্যাগ ও জেনারেল অফিসারের পদ রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মেরিন কোর বেস কোয়ান্টিকোতে জুনিয়র অফিসার ও সিপাহিদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে হেগসেথ বরখাস্তের এই সিদ্ধান্তগুলোকে জবাবদিহিতা এবং দীর্ঘদিনের বাকি থাকা পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তবে ক্যাপিটল হিলে এই পদক্ষেপ ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে না। কংগ্রেসের কিছু সদস্য একে সামরিক কাঠামোর ওপর পরিকল্পিত ছাঁটাই অভিযান হিসেবে সমালোচনা করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপে ধ্বংস হওয়া দক্ষতা পুনর্গঠন করতে কয়েক বছর সময় লেগে যাবে। হেগসেথের তীব্র সমালোচক তথা নৌবাহিনীর সাবেক যুদ্ধবিমান চালক সেনেটর মার্ক কেলি গত মাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এক ধরনের গভীর আক্রোশ রয়েছে। তিনি সামরিক বাহিনীর এক প্রজন্মের দক্ষ নেতাদের অপসারণ করছেন, যা পূরণ হতে পুরো এক প্রজন্ম সময় লেগে যাবে।
এই অভ্যন্তরীণ সামরিক রদবদলের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান সংক্রান্ত সামরিক পরিকল্পনা অত্যন্ত জোরালো হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প বারবার ইরানে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন। ইসরায়েলের সাথে আট মাস আগে যুদ্ধ শুরু করার পর ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি এই কাজ শেষ করবেন। একই সাথে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর বিকল্প উন্মুক্ত রেখেছেন বলে প্রকাশ করেছেন।
দুইজন কূটনীতিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই একাধিক মধ্যপ্রাচ্যের দেশ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সতর্ক করেছেন যেন তারা নির্বাচনের পর সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকে। পাশাপাশি ইরান যদি পাল্টা হামলার চেষ্টা করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে কূটনীতিকরা নিশ্চিত করেছেন যে ট্রাম্প এখনো নতুন করে বিমান হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
সূত্র: গালফ নিউজ