✕


পূর্ব সাগরে উত্তর কোরিয়ার প্রায় এক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২৯, | ১৩:৫০:০৫ |

উত্তর কোরিয়া বৃহস্পতিবার দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে পূর্ব সাগরমুখী প্রায় এক ডজন স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। সীমান্ত নিয়ে দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এক বিবৃতিতে জানায়, উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে প্রায় এক ডজন স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি শনাক্ত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। পূর্ব সাগর জাপান সাগর নামেও পরিচিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের আশঙ্কায় সামরিক বাহিনীর নজরদারি ও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে জাপানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া থেকে ছোড়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এমন একটি বস্তু ইতোমধ্যে সাগরে পড়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এসব পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে নতুন নির্ভুল লক্ষ্যভেদী টর্পেডো ব্যবস্থা এবং মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। উভয় অস্ত্রব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থলসীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটল।

চলতি মাসের শুরুর দিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘের যৌথ তদন্তে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া এক বছরেরও বেশি সময় আগে ওই স্থলমাইনগুলো পুঁতে রেখেছিল। ঘটনাটিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। পাশাপাশি পিয়ংইয়ংকে সংলাপে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে সিউল।

আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি পিয়ংইয়ং
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের আলোচনার প্রস্তাবকে উপহাস করে আসছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং এ উদ্যোগকে ‘প্রহসনের চূড়ান্ত পর্যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন।

গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে সামরিক আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। সীমান্তের সুনির্দিষ্ট অবস্থান পারস্পরিকভাবে নিশ্চিত করা এবং যোগাযোগের চ্যানেলগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা করাই ছিল এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তবে পিয়ংইয়ং এখনো প্রস্তাবটির বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি।

দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড) বিশ্বের অন্যতম কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত সীমান্ত হিসেবে পরিচিত। সেখানে এর আগেও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের অবসান ঘটলেও কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি; যুদ্ধবিরতির মাধ্যমেই সংঘাতের অবসান ঘটে। ফলে সিউল ও পিয়ংইয়ং এখনো কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যোগাযোগের উদ্যোগ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওয়াশিংটনের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া সম্ভাব্য পারমাণবিক আলোচনা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্যে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনাকে কিছুটা খাটো করে দেখিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। তবে কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ‘খুব ভালো’ বলে জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এর আগে, অক্টোবরে ট্রাম্প চলতি বছর কিমের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পরদিনই উত্তর কোরিয়া কয়েকটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..