✕


স্ট্রোক-পরবর্তী প্যারালাইসিসে ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২৯, | ১৩:৪০:৫৪ |

প্রতিবছর ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালিত হয়। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো স্ট্রোক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং স্ট্রোকজনিত অক্ষমতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করা। বিশ্ব স্ট্রোক দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘The Time Is Now‘ বা ‘এখনই সময়’; যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে স্ট্রোক প্রতিরোধ, দ্রুত চিকিৎসা এবং পরবর্তী পুনর্বাসনে উদ্যোগ নেওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই।

মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক ঘটে। এর ফলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ধূমপান, স্থূলতা, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। স্ট্রোকের পর অনেক রোগীর শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যায় বা সম্পূর্ণ অবশ হয়ে পড়ে, যাকে হেমিপ্লেজিয়া বলা হয়। কারও হাঁটাচলা, হাতের কাজ, কথা বলা কিংবা দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। ফলে রোগীকে দীর্ঘদিন অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। তবে সময়মতো চিকিৎসা ও পরিকল্পিত পুনর্বাসনের মাধ্যমে অনেক রোগীর কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।

স্ট্রোকের লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ দেখা দেয়। মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, এক হাত বা পা দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বুঝতে অসুবিধা, হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, ভারসাম্য হারানো কিংবা তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে এর সতর্কসংকেত। এসব লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হবে। লক্ষণ শুরুর সময়টি মনে রাখা জরুরি, কারণ স্ট্রোকের ধরন নির্ণয় করে চিকিৎসক দ্রুত উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। নিজে থেকে কোনো ওষুধ, বিশেষ করে অ্যাসপিরিন দেওয়া উচিত নয়। কারণ রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের ক্ষেত্রে তা মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

স্ট্রোকের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণে হারিয়ে যাওয়া নড়াচড়া, ভারসাম্য ও দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা পুনরুদ্ধারে নিয়মিত ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক পুনর্বাসন অপরিহার্য। রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে যত দ্রুত সম্ভব পুনর্বাসন শুরু করা উচিত। ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর দুর্বলতা, পেশির শক্তি ও চলাফেরার সক্ষমতা মূল্যায়ন করে চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন। এর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে জয়েন্টের নড়াচড়া ও পেশির নমনীয়তা বজায় রাখা, পেশির শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি, বসা, দাঁড়ানো ও হাঁটার প্রশিক্ষণ এবং হাতের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি সঠিক অবস্থানে শোয়ানো, নিরাপদ চলাচল এবং উপযুক্ত ব্যায়ামের মাধ্যমে

বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সমন্বিত পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে শুধু ফিজিওথেরাপি নয়, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, গিলতে পারার সমস্যা ব্যবস্থাপনা, পুষ্টি পরামর্শ এবং মানসিক সহায়তাও সমানভাবে জরুরি। নিউরোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট ও পরিবারের সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টা রোগীর পুনরুদ্ধারকে আরও কার্যকর করতে পারে। পরিবারের সদস্যদের উচিত রোগীকে অতিরিক্ত নির্ভরশীল না করে তার সামর্থ্য অনুযায়ী নিজে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং সঠিক উপায়ে সহায়তা করা। পরিশেষে, স্ট্রোক প্রতিরোধে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও সচেতনতার বিকল্প নেই। সঠিক সময়ে চিকিৎসা, নিয়মিত ফিজিওথেরাপি এবং পরিবারের সহযোগিতায় স্ট্রোক-পরবর্তী প্যারালাইসিসে আক্রান্ত রোগীরা আবারও স্বনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনে ফিরে আসতে পারেন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..