✕


জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি

কম্বোডিয়ায় নামিয়ে দেওয়া হলো প্রমোদতরির শতাধিক বাসিন্দাকে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২৯, | ১৩:৩৮:২৯ |

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিচালন ব্যয় সামাল দিতে না পেরে কম্বোডিয়ায় শত শত যাত্রীকে নামিয়ে দিয়েছে বিশ্বভ্রমণকারী প্রমোদতরি ভিলা ভি ওডিসি। দীর্ঘমেয়াদে এমনকি স্থায়ীভাবে জাহাজে বসবাসের সুযোগ দেওয়া এই প্রমোদতরির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেস।

মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান ব্যবসায়িক মডেলে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া আর্থিকভাবে টেকসই হচ্ছে না। যাত্রীদের কম্বোডিতে নামিয়ে দিয়ে তাদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে প্রতি কেবিনের জন্য মাসিক জ্বালানি ব্যয় গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার থাকলেও এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে সম্প্রতি তা বেড়ে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এত বড় ব্যয়বৃদ্ধির চাপ সরাসরি বাসিন্দাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রায় ৭৫৫ দিন ধরে বিশ্বভ্রমণ করছিল ভিলা ভি ওডিসি। জাহাজটিতে দীর্ঘমেয়াদি কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কেবিন ভাড়া নেওয়া বা কেনার সুযোগ ছিল। এর ধারণক্ষমতা ৬৫০ জন। জাহাজটির ভিলার মতো বিলাসবহুল স্যুইটের দাম ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ভেতরের দিকের একটি কেবিনের দাম ১ লাখ ২০ হাজার ডলার।

প্রেয়াহ সিহানুক প্রদেশের উপগভর্নর লং দিমাঞ্চে জানান, জাহাজটিতে ২০৩ জন যাত্রী ও ১৫৬ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে উড়োজাহাজে করে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। অন্যরা বন্দরনগরী সিহানুকভিলে অপেক্ষা করছেন। শনিবার কম্বোডিয়া ছেড়ে যাওয়ার আগে জাহাজটির জ্বালানি নেওয়ার কথা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও হতাশা দেখা গেছে। তবে কেউ কেউ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আরও কিছুদিন ঘোরার সুযোগ পেয়ে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন।

জাহাজটির বাসিন্দা র‍্যান্ডি ক্যাসিংহ্যাম তার ওয়েবসাইটে জানান, কম্বোডিয়ার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার কিছু পর প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ক্যাথি ভিলাবা যাত্রীদের বার্তা দিয়ে দুপুর ২টার মধ্যে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব মালপত্র সরানো সম্ভব না হলে কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করতে বলা হয়।

ক্যাসিংহ্যামের মতে, ব্যবসায়িক মডেলের দুর্বলতা, ব্যবস্থাপনার ভুল এবং জ্বালানির দাম ও সরবরাহসংক্রান্ত সংকটসহ একাধিক সমস্যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছিল।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জ্বালানি খরচ কমাতে জাহাজের গতি কমানো এবং বন্দরে অবস্থানের সময় বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসব উদ্যোগেও জ্বালানির অস্বাভাবিক ব্যয়বৃদ্ধি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে পরিচালনাগত লোকসান বহন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ব্যবসা পুনর্গঠন ও নতুন মূলধন সংগ্রহের উদ্যোগ নেবে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থায়ন চূড়ান্ত হয়নি। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..