✕


বিক্ষোভে অচল ফ্রান্স, সংঘর্ষ-ধরপাকড়

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২৫, | ০৮:৫১:১৬ |

বিক্ষোভে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ লিওঁ, লিল, তুলুজ, নঁত, মার্সেই ও বোর্দোয় লাখো মানুষ রাজপথে নামে। গতকাল কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। লিওঁ, লিল, তুলুজ ও নঁতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ। বিক্ষোভ ঘিরে প্যারিসের ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশন, ল্যুভরসহ বড় জাদুঘর ও বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটির প্রধান শহরগুলো অচল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছে ফরাসি সরকার। চালানো হয়েছে নজিরবিহীন তল্লাশি ও ধরপাকড়। 

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চ মূল্য ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়ার পর এবার শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেয় ফরাসি সরকার। আগের সপ্তাহের তুলনায় গতকাল ১০ হাজার বেশি পুলিশ ও জেন্ডার্ম (সামরিক কাঠামোর অধীন পুলিশ বাহিনীর সদস্য) মোতায়েন করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিট, সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার, পুলিশ কুকুর ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্যারিসের শঁজেলিজেস এলাকায় সেনাসদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ গতকাল গণমাধ্যমকে জানান, দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভের আগে ও চলাকালে তল্লাশিতে ধাতব বল, সিসার ছররা, আতশবাজি, গুলতি, ইম্প্রোভাইজড অস্ত্র, কাতানা, এয়ারসফট অস্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সহিংসতা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার কোনো চেষ্টা সহ্য করা হবে না।’

রাজধানী প্যারিসের বড় একটি অংশ কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। সম্ভাব্য ভাঙচুর ও লুটপাটের আশঙ্কায় দোকানপাটের কাচের সামনে কাঠের প্যানেল বসান ব্যবসায়ীরা। ল্যুভর, মিউজে দ’অরসে, প্যারিস অপেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। বন্ধ করা হয় ২০টির বেশি মেট্রো স্টেশন। গত সপ্তাহে দেশজুড়ে হাজার হাজার দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হওয়ায় এবার অনেক ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন।

প্যারিসে অনুমোদিত মূল মিছিলটি অবশ্য বড় ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই শেষ গন্তব্য পোর্ত দ্য ভিনসেনে পৌঁছায়। তবে বিক্ষোভের পথ নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সরকার ও আয়োজকদের মধ্যে টানাপড়েন ছিল। পুলিশ বাস্তিল থেকে নাসিওঁ পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত পথ বাতিল করে শহরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্ত দিয়ে নতুন পথ নির্ধারণ করে। কর্তৃপক্ষের দাবি, আগের সপ্তাহে যেসব এলাকায় ব্যাপক লুটপাট হয়েছিল, সেসব বাণিজ্যিক এলাকা এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত। বামপন্থী নেতারা অবশ্য একে বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

রাজধানীর বাইরে পরিস্থিতি ছিল বেশি উত্তপ্ত। লিওঁ, লিল, তুলুজ ও নঁতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে দাঙ্গা পুলিশ। নঁতে নিষিদ্ধ এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। বোর্দোয় পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া এবং ব্যারিকেড তৈরির খবরও পাওয়া গেছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল দেশজুড়ে আনুমানিক ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। তবে বিক্ষোভের আয়োজক ট্রেড ইউনিয়নগুলোর অন্যতম সিজিটি দাবি করেছে, বিক্ষোভে মোট আট লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে, যা সরকারের হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ।

আর প্যারিসে সিজিটি ইউনিয়নের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্যারিস পুলিশের হিসাবে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার।

চলমান আন্দোলনে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বা হলুদ জ্যাকেট আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে শ্রমিক সংগঠন এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছেন। গতকাল দেশজুড়ে ৭০০টির বেশি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন। শিক্ষা ব্যবস্থায় সংকট, শিক্ষকস্বল্পতা ও সরকারি সেবার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় আন্দোলনের অন্যতম ইস্যু। ৩১ অক্টোবর আবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকার দাবি না মানলে আগামী ৫ নভেম্বর সাধারণ ধর্মঘট হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..