✕


হাম-ডেঙ্গুর সংক্রমণ থামছে না : সারাদেশে এক দিনে ১৪ জনের মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২৪, | ১৭:১৫:৩০ |
গত মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া হাম ও হাম উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যু থামছে না। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হাম পরিস্থিতি : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সারাদেশে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৬৫ জন।  

এতে আরও বলা হয়, এই ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজন, সিলেটে দুইজন, চট্টগ্রামে দুইজন ও ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২২২ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৯৫ হাজার ৫১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৮৪ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৫১ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৩২৪ জনে।

ডেঙ্গুরোগের পরিস্থিতি : শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৮৯৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭৭ জনে।

এতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন চট্টগ্রামে এবং বাকি চারজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন ছিল।

এ সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৫৯ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ৪৩১ জন রয়েছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৮১ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, ঢাকার বাইরে খুলনায় সবচেয়ে বেশি—৩৫৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া বরিশালে ২৫২ জন, চট্টগ্রামে ২৩২ জন, রাজশাহীতে ১৪১, ময়মনসিংহে ৭৫, রংপুরে ৫১ এবং সিলেটে সাতজন ভর্তি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজন করে মারা যায়। মে মাসে মারা যায় একজন। এরপর জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১৩২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৯ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩২ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ নারী এবং ৪৭ শতাংশ পুরুষ। অন্যদিকে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী এবং ৬২ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..