✕

সর্বশেষ :
ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৭৭ লিটন-তাসকিনকে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা বাংলাদেশের হুতির লাগাতার হামলায় বিপর্যস্ত সৌদি, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৮, আহত ৪৬ কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘দলের সবারই বিশ্বাস ছিল ৪৩০ রান তাড়া করতে পারবো’ ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের নির্দেশ আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম 'ট্রাম্প মহাসাগর' দিতে গুগলকে ফোন তিব্বতে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, তাইওয়ানেও ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ইরান কি সৌদি-হুতি সংঘাত মেটাতে পারবে?

ইরান কি সৌদি-হুতি সংঘাত মেটাতে পারবে?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২৩, | ১৩:০৯:৪৬ |

সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে দিন দিন তীব্র হতে থাকা সংঘাত প্রশমনে ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেও সেই উদ্যোগ এখন পর্যন্ত কোন আলো দেখেনি। গত ১১ অক্টোবর তেহরান দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসানোর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়। এর দিন ১১ পরও সৌদি আরব কিংবা হুতি কোনো পক্ষই ইরানের এই প্রস্তাব গ্রহণে আগ্রহ দেখায়নি।

বর্তমানে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পুনরায় আলোচনায় ফেরার খুব একটা লক্ষণ চোখে পড়ছে না। হুতি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি সম্প্রতি পুনরুল্লেখ করেছেন যে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণ ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ না রিয়াদ ইয়েমেনি জনগণের ওপর প্রায় ১২ বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধ তুলে নেয়।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ হুতির এসব শর্ত মেনে নিতে একেবারেই প্রস্তুত নয়। ইয়েমেন বিষয়কে বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ বাশার ভাষ্যমতে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হুতির কাছে দেশের আকাশ ও সামুদ্রিক সীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে না কিংবা বিপুল পরিমাণের ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে না। এ ধরণের ছাড় দিলে তা টেকসই শান্তির কোনো নিশ্চয়তা না দিয়েই হুথিদের সামরিক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুরস্কৃত করার শামিল হবে।

অন্যদিকে, তাইজ ও মারিবসহ একাধিক ফ্রন্টে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতির মধ্যে লড়াই আরও জোরদার হয়েছে। এমনকি দুই পক্ষ যদি কোনো সাধারণ চুক্তিতে উপনীতও হতে পারে, তবে তা কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের বদলে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক অ্যালেক্স জালিলি। তিনি জানান, হুতির দাবির মধ্যে বন্দর-বিমানবন্দরের কড়াকড়ি শিথিলের বাইরেও তেল-গ্যাসের রাজস্বে অংশীদারিত্ব এবং রাজনৈতিক স্বীকৃতি অর্জনের বিষয়গুলো জড়িত।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির তথ্যমতে, মধ্যস্থতার প্রস্তাবের বিষয়ে দুই পক্ষের কারোর কাছ থেকেই সাড়া মেলেনি। রিয়াদের জন্য ইরানের মধ্যস্থতা মেনে নেওয়া কেবল ইয়েমেন যুদ্ধের বিষয় নয় বরং তা অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের সাথে সম্পর্কিত। ইরান-সংক্রান্ত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা রিয়াদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার, যা গত ২৯ জুলাই ইরাকে ইরান-সংলগ্ন গোষ্ঠীগুলোর ওপর মার্কিন ও সৌদি যৌথ বিমান হামলায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাশাপাশি তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে 'মক্কা চুক্তি' স্বাক্ষরের মাধ্যমে রিয়াদ একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে চাইছে।

এছাড়া ওমানের মাধ্যমে রিয়াদ ও হুথিদের নিজস্ব যোগাযোগের পথ ইতোমধ্যেই খোলা রয়েছে। ফলে তেহরানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মেনে নিয়ে হুতি আচরণের চূড়ান্ত অভিভাবক হিসেবে ইরানকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো ইচ্ছা রিয়াদের নেই। আবার হুতিরাও মনে করছে, সৌদি আরবে অব্যাহত আক্রমণের মাধ্যমে সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করে তারা পরবর্তীতে আলোচনার টেবিলে নিজেদের দরকষাকষির ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে পারবে।

রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিশ্লেষক সিনা তুসির মতে, ইরান মূলত একটি বিস্তৃত চুক্তি দেখতে চায় যা ইয়েমেনের বন্দর, বেতন প্রদান ও পুনর্গঠনের পাশাপাশি সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রদান করবে। তবে তেহরানের মূল কৌশলগত উদ্দেশ্য হলো, হুতির মাধ্যমে নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখা কিন্তু একই সাথে সংঘাত যেন কোনো অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা। অতিরিক্ত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তা ২০২৩ সালের চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং তেহরান ও রিয়াদের সম্পর্ককে আবারও চরম সংকটে ফেলবে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..