✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২২, | ১২:৪৯:৪৬ |ফ্রান্সে আগামী কয়েক দিনে অনুষ্ঠেয় বিক্ষোভে সহিংসতা বরদাশত করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। একই সঙ্গে ফ্রান্সের চলমান অস্থিরতা নিয়ে কয়েকজন বিদেশি নেতার মন্তব্যকে বোকামিপূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। খবর আল-জাজিরার।
জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে ফ্রান্সের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী শনিবার আবারও সমাবেশের ডাক দিয়েছে দেশটির প্রধান ছাত্র সংগঠন ইউএনইএফ। একই দিনে প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় মিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীদেরও। তবে গত সপ্তাহান্তে ঘটে যাওয়া সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ।
এদিকে সংকট মোকাবিলায় শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তবে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মজুরি বৃদ্ধি ও সরকারি পরিষেবা-সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে সরকার সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দেয়নি। এ পরিস্থিতিতে আগামী ৫ নভেম্বরের সাধারণ ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউনিয়নগুলো।
ফ্রান্সের চলমান অস্থিরতা নিয়ে বিদেশি কয়েকজন নেতা ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ম্যাক্রোঁ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিবাসী ও উগ্র ইসলামপন্থীদের দায়ী করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাক্রোঁর অভিযোগ, ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছেন কয়েকজন বিদেশি রাজনীতিক।
বিক্ষোভকারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দাবির বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে বুধবার ফ্রান্সের পার্লামেন্টেও উত্তপ্ত আলোচনা হয়। এ সময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইনপ্রণেতারা। তাদের অনেকে সহিংসতার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। তাদের বক্তব্য, যারা ভাঙচুর, লুটপাট কিংবা ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিবর্তে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে রাস্তায় নেমেছেন, তাদের বক্তব্য উপেক্ষা করা উচিত নয়।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য ও বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ হয়। এর পর থেকে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।