✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২২, | ১২:৪৮:০৯ |মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মুখে নিজেদের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে নীরবে সৈন্য সরাতে শুরু করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে অঞ্চলের একাধিক কূটনৈতিক মিশন থেকে অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে এক দফায় বড় ধরনের হামলার কথা বিবেচনা করার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজ দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুইজন ব্যক্তির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পেন্টাগন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার চিত্রটি গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলা শুরুর আগের প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপগুলোর সঙ্গেই হুবহু মিলে যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডান, কাতার এবং কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের একটি বড় অংশকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা অঞ্চলটির ঘাঁটিগুলোতে সীমিত আকারের উপস্থিতি বজায় রাখবে। বিশেষ করে যারা আকাশ প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদেরকে স্বপদে বহাল রাখা হচ্ছে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পূর্বেও পেন্টাগন সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা আঘাত থেকে বাঁচাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঘাঁটিগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্যকে সরিয়ে নিয়েছিল। সেসময় হাজার হাজার মার্কিন সেনাসদস্যকে সাধারণ বেসামরিক হোটেল ও কার্যালয়গুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হলে, তেহরান ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তোলে।
সৈন্যদের বর্তমান এই গতিবিধি ও স্থানান্তর প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি কেবল উল্লেখ করেছেন, মিশন পরিচালনায় সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনীকে প্রায়শই নতুন করে বিন্যস্ত করা হয় এবং মার্কিন কর্মী ও স্বার্থ রক্ষায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা বৃদ্ধির কারণে সৌদি আরব থেকেও অপরিহার্য নয় এমন কূটনৈতিক কর্মী ও তাদের স্বজনদের দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য এলাকা থেকেও মার্কিন কূটনৈতিক উপস্থিতি কমানোর প্রস্তুতি চলছে। যদিও পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট অতিরিক্ত কূটনৈতিক প্রত্যাহারের এসব প্রতিবেদনকে 'অসংগত' বলে দাবি করেছেন।
এই স্পর্শকাতর ঘটনাবলী এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন উচ্চপদস্থ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় হামলা চালানোর বিভিন্ন প্রস্তাব ও বিকল্প তুলে ধরেছেন। এনবিসি নিউজের তথ্যমতে, এই প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলো, মাটির তলদেশের সামরিক স্থাপনা এবং প্রণালীর কৌশলগত দ্বীপগুলোতে হামলা চালানো। কৌশলগত দ্বীপগুলোর তালিকায় খারগ দ্বীপ রয়েছে; এটি ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র এবং হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। ট্রাম্পের কতিপয় শীর্ষ উপদেষ্টা, যার মধ্যে যুদ্ধবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথও রয়েছেন, তেহরানের ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়াতে ফের সামরিক অভিযান চালুর জোরালো সুপারিশ করেছেন। তবে অপর একদল উপদেষ্টা সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ ছাড়া আবার একটি বড় ধরণের সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।
সূত্র: আরটি