✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১০-২২, | ১২:৪৬:৫২ |গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং রুশ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার পারস্পরিক অবিশ্বাস এই সংকটকে আরও গভীর করেছে।
গত সোমবার ট্রাম্প অভিযোগ করেন, জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না। ইউক্রেনের পক্ষে অন্য কারও আলোচনায় বসার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে জেলেনস্কিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চেয়েও 'কঠিন ব্যক্তি' হিসেবে আখ্যা দেন ট্রাম্প।
মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে রাখতে সম্প্রতি কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেন তিনি।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে গত সপ্তাহান্তে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনালসহ কয়েকটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার পক্ষ নিলে তা হবে একটি 'ঐতিহাসিক ভুল'। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প কথিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পরও রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন সরকার স্টারলিংক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পরিচালিত ড্রোনের গতি কমিয়ে দিয়েছে এবং রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের খবরে কিয়েভ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ সেখানে ইউক্রেনকে রাখা হয়নি। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য ওই বৈঠকটি ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, বরং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে হবে।