✕

সর্বশেষ :
হাসিনা আমলের চোর-সন্ত্রাসী-মানি লন্ডারারদের দেশে ফেরানো অগ্রাধিকার তালিকায় নৈতিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার তাগিদ শিক্ষামন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ, ক্ষমা চাইল মেটা যে নিয়ম পরিবর্তনের ফলে বদলে যাচ্ছে একদিনের ক্রিকেট রোগ প্রতিরোধই সরকারের মূল অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী গাড়ি থেকে নিজ হাতে সরকারি লোগো খুললেন ইশরাক বিয়ের জন্য এক বছর বিজয়ের পেছনে লেগেছিলেন রাশমিকা! ককরোচদের ঠেকাতে আত্মপ্রকাশ করল ‘লাল হিট জনতা পার্টি’ বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্সে একদিনে গ্রেপ্তার ২ হাজার ৪০০ প্রতিবাদের নামে তাণ্ডবের যৌক্তিকতা নেই: ফরাসি প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ, ক্ষমা চাইল মেটা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৯, | ১৪:৩৭:১৩ |

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারবিরোধী গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন ‘নো কিংস’-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেন্সরশিপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটির মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, অতিরিক্ত মাত্রায় পোস্ট করা, শেয়ার করা বা মন্তব্য করার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে নো কিংসের অ্যাকাউন্ট বন্ধের সিদ্ধান্তটি ভুলবশত নেওয়া হয়েছিল বলে স্বীকার করেন তিনি।

রোববার নো কিংস কোয়ালিশন তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জানায়, তারা আবার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। তবে এ ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা এখনো মেটার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের সময় ভোটদান নিয়ে প্রচারের যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করে সংগঠনটি।

স্টোনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শনিবার অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক প্রোফাইল, পোস্ট ও হ্যাশট্যাগ দেখার কারণে মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা ওই কার্যক্রমকে স্বয়ংক্রিয় বটের তৎপরতা বলে শনাক্ত করে। ফলে নিরাপত্তাব্যবস্থা ভুলভাবে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর স্বয়ংক্রিয় পুনর্মূল্যায়নে ভুলটি ধরা পড়ে এবং অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু করা হয়। তবে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতে আরও সময় লেগেছিল বলে জানান তিনি।

যদিও মেটার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন আন্দোলনের আয়োজকেরা। তাদের দাবি, সদস্যরা মাত্র কয়েকটি পোস্ট দিয়েছিলেন এবং হাজারো মানুষের কাছে সরাসরি সম্প্রচার করেছিলেন। এতেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।

এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও। রোববার এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মালিকানা ধনকুবেরদের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার ফলেই নো কিংসের অ্যাকাউন্ট বন্ধের মতো ঘটনা ঘটেছে।

কানেকটিকাটের সিনেটর ক্রিস মারফি ঘটনাটির তদন্ত দাবি করেছেন। তার মতে, মার্কিন সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে মেটার অতিরিক্ত প্রভাবের বিষয়টি এ ঘটনা সামনে এনেছে। ট্রাম্পবিরোধী প্রচারণার অন্যতম বড় দিনের জন্য মেটা কেন প্রস্তুত ছিল না, সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অন্তত ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা জানতে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

অ্যাকাউন্ট বন্ধের ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হলেও শনিবারের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলো অব্যাহত ছিল। ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়ালে কয়েক শ মানুষ জড়ো হন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘আগেভাগে ভোট দিন’ এবং ‘আমার ভোটে হস্তক্ষেপ নয়’ এমন স্লোগান লেখা ছিল।

আটলান্টায় সিটি কাউন্সিলর মাইকেল জুলিয়ান বন্ড বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, সংবিধান তাদের যে ক্ষমতা দিয়েছে, তা হলো ভোট দেওয়ার ক্ষমতা। তিনি সেই ক্ষমতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রস্থলে প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে ছাতা হাতে বিক্ষোভ করেন অনেকে। তাদের দাবির মধ্যে ছিল অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই বিলুপ্ত করা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ধনকুবেরদের ওপর কর আরোপ।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী ছাঁটাই, অভিবাসনবিরোধী অভিযান এবং বিদেশে যুদ্ধের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে উদ্বেগ থেকে গত বছর নো কিংস আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনটি বিভিন্ন ইস্যুতে বিস্তৃত হয়েছে। এর কর্মসূচিতে সাধারণত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা গুরুত্ব পায়।

এ বছর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের আগাম ভোটদানে উৎসাহিত করাকে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ভোটাধিকার আইনের গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দুর্বল করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ট্রাম্পের নির্বাচনের ফল নিয়ে ভিত্তিহীন প্রশ্ন তোলার আশঙ্কাও এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে।

আন্দোলনের আয়োজকেরা শনিবারের কর্মসূচি থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে নির্বাচনে কারচুপি বা ফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা হলে তা মোকাবিলায় মানুষকে সংগঠিত করা যায়। নো কিংসের কর্মসূচি আয়োজনে সহায়তাকারী প্রগতিশীল সংগঠন ইনডিভিজিবলের সহনির্বাহী পরিচালক লিয়া গ্রিনবার্গ এর আগে দ্য গার্ডিয়ানকে এ তথ্য জানিয়েছিলেন। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..