✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২৮, | ০০:০০:৪১ |দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে গাজীপুর সাফারি পার্কের ছোট্ট ও বদ্ধ প্রকোষ্ঠে বন্দি রয়েছে জিম্বাবুয়ে থেকে পাচার হয়ে আসা দুটি চিতাবাঘ। আন্তর্জাতিক বন্য প্রাণী পাচারচক্রের হাত থেকে ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এই বন্য প্রাণী দুটি অত্যন্ত সীমিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিন কাটাচ্ছে। এদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসনের জন্য জিম্বাবুয়ের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করলেও দেশটির সরকারের অসহযোগিতা এবং অনীহার কারণে সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বাংলাদেশেই অবরুদ্ধ জীবন কাটতে বাধ্য হচ্ছে এই দুটি বিরল প্রাণীর।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালের ১৫ জুন। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে খাঁচাবন্দী অবস্থায় দুটি চিতাশাবক উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বন্য প্রাণী পাচার প্রতিরোধে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আটক পাচারকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন বিভাগ নিশ্চিত হয় যে, শাবক দুটি সুদূর আফ্রিকা মহাদেশের জিম্বাবুয়ে থেকে পাচার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছিল। উদ্ধারের পর সাময়িক সময়ের জন্য গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতালের কোয়ারেন্টিনে রাখা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে পার্কের ছোট প্রকোষ্ঠেই আটকে রাখা হয়েছে তাদের। সাফারি পার্কের নির্ধারিত নকশার সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত অর্থসংকটের কারণে চিতাগুলোর জন্য উপযুক্ত ও বড় কোনো বেষ্টনী তৈরি করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চিতাবাঘ দুটির এই দুরবস্থা লাঘবে পরবর্তীতে আশার আলো হয়ে এগিয়ে আসে জিম্বাবুয়ের বন্য প্রাণী পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করা সুপরিচিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অ্যান আই ফর দ্য ওয়াইল্ড’। সংস্থাটি জিম্বাবুয়েতে চিতাবাঘ দুটিকে ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসনের জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বন বিভাগের প্রধান সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল জিম্বাবুয়ের ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট অথরিটির মহাপরিচালকের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। চিঠিতে জানানো হয়, চিতাবাঘ দুটি ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ সরকার সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে এবং জিম্বাবুয়ের ‘অ্যান আই ফর দ্য ওয়াইল্ড’ নামের স্বনামধন্য সংস্থাটি এগুলোর সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক।
জিম্বাবুয়ের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দফায় দফায় যোগাযোগ রাখা হয়। সে বছর জুনে জিম্বাবুয়ে কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী চিতাবাঘ দুটির ভেটেরিনারি সনদও পাঠানো হয় বন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। সমস্ত প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর পরও ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট এক ফিরতি চিঠিতে জিম্বাবুয়ে সরকারের ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট সাফারি পার্কে থাকা এই দুটি চিতাবাঘ ফিরিয়ে নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে জিম্বাবুয়ের ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা জিম্বাবুয়ে সরকারের বন্য প্রাণী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং চিতাবাঘগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় খাঁচা বানানোর মতো পর্যাপ্ত তহবিলও সংগ্রহ করেছে। তা সত্ত্বেও সরকারের এমন অনমনীয় আচরণে তারা হতাশ হলেও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে জিম্বাবুয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের ইমেইলের কোনো সাড়া মেলেনি।
জিম্বাবুয়ে সরকারের এমন নেতিবাচক মনোভাবের পর বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর বাধ্য হয়ে দেশেই চিতাবাঘ দুটির স্থায়ী ও উন্নত বাসস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে। গাজীপুর সাফারি পার্কের দায়িত্বে থাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে চিতাবাঘ দুটির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা সংবলিত একটি বড় খাঁচা বা বেষ্টনী তৈরির জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ছোট খাঁচায় বন্দি থাকা প্রাণী দুটি কিছুটা স্বস্তিকর পরিবেশ পাবে।