✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৯, | ১৪:২১:১৩ |ভুল এআই রিপোর্টের জেরে চলতি বছরের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে একটি চীনা জাহাজে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওই প্রতিবেদনে জাহাজটিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপাদান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে জানা যায়, এআইয়ের সহায়তায় তৈরি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্যই ছিল ভুল।
শুক্রবার সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ঘটনাটির বিষয়ে অবগত চারজন বেনামি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, জাহাজটি আটকাতে প্রস্তুতি নিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। তবে অভিযানের শেষ মুহূর্তে কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন, একজন বিশ্লেষক যে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছিলেন, সেটি জাহাজে থাকা পণ্যকে ভুলভাবে শনাক্ত করেছে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক সূত্র ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, ভুল এই তথ্য ‘প্রায় যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়েছিল’। তবে জাহাজটিতে আসলে কী ধরনের পণ্য ছিল কিংবা সেটি কোথায় যাচ্ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সিএনএন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবেদন এমন সময়ে সামনে এলো, যখন এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক চলছে। চলতি মাসের শুরুতে শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের এক গবেষক প্রযুক্তিটি একসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।
অ্যানথ্রপিকের আরেক কর্মী, যিনি পদত্যাগ করেননি, প্রকাশ্যে বলেন, এআইয়ের কারণে ‘সব মানুষ মারা যেতে পারে’ এমন সম্ভাবনাকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। তার মতে, আগামী এক দশকের মধ্যে এমন ঘটার আশঙ্কা ১০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে। তবে এসব সতর্কতার মধ্যেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র এআই উন্নয়নের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিরোধিতা করেছেন।
এফ-৩৫-এর যন্ত্রাংশও হংকংয়ে গিয়ে নিখোঁজ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে ঘিরে আরেকটি পৃথক ঘটনাও সামনে এসেছে। শুক্রবার পলিটিকো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মেরামতের জন্য পাঠানোর পথে হংকংয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ককপিটের সংবেদনশীল স্টেলথ ক্যানোপিও ছিল। বর্তমানে এসব যন্ত্রাংশের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বেইজিংয়ের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে কেন এসব যন্ত্রাংশের গন্তব্য পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সেগুলো কোথায় রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
এফ-৩৫-এর সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা লকহিড মার্টিনের এক মুখপাত্র নির্দিষ্ট কোনো চালান নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি বলেন, বিমানটির যন্ত্রাংশ পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন সরকারের সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলে।
তিনি আরও বলেন, এফ-৩৫ কর্মসূচির অখণ্ডতা এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি চালান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করে পরিচালনা করা হয়।