✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৬, | ১০:৪১:২০ |আমেরিকার ইচ্ছা ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা, তবে তেহরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার লাস ভেগাসে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলায় যেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, ইরানেও ঠিক একই কৌশল প্রয়োগ করছে ওয়াশিংটন।
সম্প্রতি মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলে ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন আলোচনার জন্য এখনো উন্মুক্ত থাকলেও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ফলাফল ভালো হবে না।
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন যুদ্ধ ছিল মাত্র ৪৮ মিনিটের। জয়ীর হাতেই যুদ্ধের সব প্রাপ্তি তুলে দেওয়া হয় এবং সেখানে যে সম্পদ অর্জিত হয়েছে, তা দিয়ে যুদ্ধের পুরো খরচ উঠে এসেছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানেও যুক্তরাষ্ট্র একই কাজ করছে এবং তাদের ওপর প্রচণ্ড আঘাত হানা হচ্ছে। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কারোর প্রাণহানি চান না বলেই কোনো সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোকে বেশি অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান।
বক্তব্যের একপর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা ও তা স্থগিতের পেছনের ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি দাবি করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক আক্রমণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে শেষ মুহূর্তে ইরানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে হামলা না চালানোর আকুল আবেদন জানানো হয় এবং আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সংবাদমাধ্যমে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও ট্রাম্প দাবি করেন, ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর জানা উচিত যে তেহরান ঠিকই আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল এবং বর্তমানে দুপক্ষের মধ্যে কথাবার্তা চলমান রয়েছে।
ইরানের বর্তমান অবস্থানের কথা উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর তেহরান এখন যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সম্মান করছে। অতীতের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা করতে পারেননি, তিনি তা-ই করে দেখিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকার লাভ করতে পারবে না এবং এটিই যুক্তরাষ্ট্রের মূল অবস্থান।
ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ টেনে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। সেখানে গড়ে ওঠা অপরাধী দল ‘ট্রেন দে আরাগূয়া’র বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ বা আইসিই কর্মকর্তাদের পদক্ষেপকে বীরত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। ভেনেজুয়েলাকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, কারাকাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ফলে যুক্তরাষ্ট্র বেশ লাভবান হয়েছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলা থেকে প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল আমদানি করা হচ্ছে এবং দেশটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।
লাস ভেগাসের এই সমাবেশের কয়েক ঘণ্টা আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে এবং ইরানি কর্মকর্তারা সমঝোতার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা পাঠিয়েছেন। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে দেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলাটাই এখন তেহরানের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সূত্র: এএনআই