টানা পাঁচ মাসের হামলার পরও ইরানের শক্তি যেভাবে এখনও অটুট আছে

যুক্তরাষ্ট্রের ডেলোয়ারের ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান (ইভা বিচ, হাওয়াই)-এর মরদেহ বহনকারী ট্রান্সফার কেস সরিয়ে নিচ্ছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি দল।

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৩, | ১৮:৪৬:২৮ |

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা পাঁচ মাসের সামরিক অভিযানে ইরানকে দুর্বল করার দাবি করা হলেও সাম্প্রতিক একটি হামলা সেই মূল্যায়ন নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর এখনও মধ্যপ্রাচ্যে কার্যকর হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। গত জুনে যুদ্ধ শুরুর পর ১ মার্চের পর এই প্রথম ইরানের সরাসরি হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা হিসেবে এটি উল্লেখ করা হচ্ছে।

দ্রুত পুনর্গঠন নিয়ে বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

পেন্টাগন ও মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের সামরিক বিশ্লেষক জেনিফার কাভানাগ আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্য। তাঁর মতে, পেন্টাগনের প্রত্যাশার তুলনায় ইরান দ্রুত পুনর্গঠিত হয়েছে এবং রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা সহায়তায় হামলার লক্ষ্যভেদের সক্ষমতাও বেড়েছে। তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরান নতুন বাস্তবতার সঙ্গে কৌশলগতভাবে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।

ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি

কিংস কলেজ লন্ডনের সিকিউরিটি স্টাডিজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অ্যান্ড্রিয়াস ক্রিগ বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা বিভিন্ন স্থায়ী ও অস্থায়ী ঘাঁটিতে অবস্থান করছেন, যেগুলোর অনেকই ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে রয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘাঁটির বেশির ভাগই রকেট বা আইইডি হামলা প্রতিরোধে প্রস্তুত হলেও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার জন্য নির্মিত নয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে সরাসরি ও পরোক্ষ হামলায় ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত, প্রায় ৫০০ জন আহত এবং প্রায় ২২০টি সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান একই সময়ে ভিন্ন গতি ও গতিপথের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

অ্যান্ড্রিয়াস ক্রিগ বলেন, অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করতে পারলেই বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ানও বলেন, যুদ্ধের শুরুর তুলনায় এখন ইরানের হামলা আরও বেশি নির্ভুল ও তীব্র হয়েছে।

পেন্টাগনের মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক

সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে সিনেটরদের প্রশ্নের মুখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেন, ইরান বড় আকারের অভিযান পরিচালনায় সীমাবদ্ধতার মুখে পড়লেও তাদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট বা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম। তাঁদের ধারণা, তেহরানের কৌশল সরাসরি সামরিক বিজয়ের চেয়ে ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে মানবিক, কৌশলগত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে রাখা।

সোর্স: আল জাজিরা

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..