✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২২, | ১৯:২০:৫০ |চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের দুই দিন পর ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) নামে এক শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবার মামাতো ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা।
বুধবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ফয়সাল (৩২), মো. রাকিব (২২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী তাসকিন গত ২০ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে যায়। ছুটির পর বাড়ি না ফেরায় পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
এক সহপাঠী পুলিশকে জানায়, সিএনজিচালক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাসকিনকে বলেন, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাকে বাবার কাছে নিয়ে যেতে এসেছেন। ওই কথায় বিশ্বাস করে শিশুটি অটোরিকশায় ওঠলে তাকে অপহরণ করা হয়।
ঘটনায় শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা যৌথ অভিযান চালায়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারিতে অপহরণকারীদের গতিবিধি শনাক্ত হয়। একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় অপহরণে ব্যবহৃত অটোরিকশা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার ফয়সাল ভুক্তভোগী শিশুর বাবার মামাতো ভাই। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করেন। এ কাজে পরিচিত দুই অটোরিকশাচালককে যুক্ত করে মুক্তিরপণের অর্থের ভাগ দেওয়ার আশ্বাস দেন।
কী কারণে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় পুলিশ। রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, অপহরণের উদ্দেশ্য তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনা হবে।