✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২২, | ১৯:১৭:৫৪ |বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানিকগঞ্জে বেড়েছে নৌকার চাহিদা। আর সেই চাহিদাকে কেন্দ্র করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে জেলার প্রায় দুই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘিওর নৌকার হাট। প্রতি সপ্তাহের বুধবার বসা এ হাটে জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে ক্রেতারা নৌকা কিনতে আসছেন।
ঘিওর সরকারি কলেজসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে বসে এই ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়ায় নৌকার বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
হাটে ডিঙ্গি, মাছ ধরার নৌকাসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা বিক্রি হয়। আকার ও মানভেদে প্রতিটি নৌকার দাম চার হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেনাবেচা চললেও বুধবার হাটের দিনে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। এদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ নৌকা বিক্রি হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
একসময় এ হাটে স্থানীয়ভাবে তৈরি নৌকাই বেশি বিক্রি হতো। বর্তমানে জেলার বাইরে থেকে আনা নৌকার সংখ্যাই বেশি। নৌকা কিনে অনেকেই ভ্যান কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে করে নিজ এলাকায় নিয়ে যান।
ক্রেতা আজিজুল হক বলেন, প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে একটি ডিঙ্গি নৌকা কিনতে এসেছেন। তবে গত হাটে সাত হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া নৌকার দাম এবার ১০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে বিক্রেতা মজিবর বেপারী বলেন, কাঠ, লোহাসহ নৌকা তৈরির সব ধরনের উপকরণের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। সেই তুলনায় নৌকার দাম খুব বেশি বাড়েনি। বর্তমানে মূলত ডিঙ্গি নৌকার চাহিদাই বেশি। আম, চাম্বুল ও কদম কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি করা হয়। উন্নত মানের কাঠ ব্যবহার করলে দাম আরও বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, বুধবার ৪০টি নৌকা হাটে এনেছেন। এর মধ্যে ২৮টি বিক্রি হয়েছে। বাকি নৌকাগুলোও বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছেন।
হাটের ইজারাদারদের খাজনা বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ক্রেতা ও বিক্রেতা। তাদের দাবি, খাজনা কমানো হলে আরও বেশি ব্যবসায়ী এ হাটে নৌকা বিক্রি করতে আগ্রহী হবেন।
ঘিওর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফকির ফারুক আহমেদ বলেন, কলেজের পাশেই এই ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট বসে। বর্ষা মৌসুমে এখানে বিপুলসংখ্যক নৌকা বিক্রি হয়। ঘোড়ার গাড়িতে করে নৌকা নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য এখনো এ হাটের অন্যতম আকর্ষণ।