✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২২, | ১৯:১৫:৩৬ |নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার পর ওপেনএআই-এর অন্যতম উন্নত এআই মডেল স্বায়ত্তশাসিতভাবে একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
চ্যাটজিপিটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই জানায়, মানুষের প্রাথমিক নির্দেশনায় একা কাজ করতে সক্ষম তাদের একটি ‘এআই এজেন্ট’ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরীক্ষা চালানোর সময় একটি নিরাপত্তাত্রুটি খুঁজে পায় এবং সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপর সেটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এআই মডেল শেয়ারিং হাব ‘হাগিং ফেস’-কে লক্ষ্যবস্তু করে প্রতিষ্ঠানটির কিছু অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশাধিকার অর্জন করে।
এই ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ হিসেবে অভিহিত করে ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা হাগিং ফেসের সঙ্গে যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে।
হাগিং ফেসের প্রধান ক্লেমেন্ট ডেল্যাঙ্গ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, পুরো বিষয়টি যেভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটেছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য ও হতবাক করার মতো। এ ধরনের ঘটনা প্রথম হতে পারে উল্লেখ করে তিনি জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলছে এবং তারা শিগগিরই এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করবেন।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইন্ডারু সেন্টার ফর টেকনোলজি অ্যান্ড ডেমোক্রেসির প্রধান জিনা নেফ বিবিসি রেডিও ৪-কে বলেন, সিকিউরিটি টেস্টের জন্য ব্যবহৃত ‘স্যান্ডবক্স’ একটি নিরাপদ পরিবেশ হওয়ার কথা ছিল, যেখানে মডেলের ক্ষমতা পরীক্ষা করা যায়; কিন্তু মনে হচ্ছে ওপেনএআই যথেষ্ট নিরাপদ স্যান্ডবক্স তৈরি করতে পারেনি। পরীক্ষা চলাকালীন এআই এজেন্টগুলো স্যান্ডবক্সের বিরুদ্ধে নিজস্ব সাইবার হামলা চালিয়ে নিরাপত্তাত্রুটি বের করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। স্যান্ডবক্সের বাইরে বের হয়ে এআই-টি হাগিং ফেসকে তাদের কাঙ্ক্ষিত উত্তরের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করে এবং সেখানে প্রবেশের চেষ্টা চালায়।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেশিন লার্নিং বিভাগের অধ্যাপক নীল লরেন্স বিষয়টিকে একটি ‘চিত্তাকর্ষক কীর্তি’ বললেও এটি বর্তমান শক্তিশালী এআই মডেলগুলোর জানা ক্ষমতার মধ্যেই পড়ে বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওপেনএআই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের নতুন মডেল ‘মিথোস’-এর কারণে প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে গিয়ে তারা প্রতিযোগিতা করছে, তবে এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ওপেনএআই নিজেদের প্রযুক্তি নিরাপদে পরিচালনা করতে এখনো পুরোপুরি সক্ষম নয়।
গত ১৬ জুলাই হাগিং ফেস প্রথম ঘটনার কথা জানিয়ে জানায়, গ্রাহক বা অংশীদারদের কোনো তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তারা দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সিস্টেম পুনর্নির্মাণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, স্বায়ত্তশাসিত এআই-চালিত আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি এখন আর কেবল তাত্ত্বিক পর্যায়ে নেই; তাই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সুরক্ষায় এআই-ভিত্তিক প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সনিকওয়ালের নির্বাহী স্পেন্সার স্টারকি বলেন, অপরাধীরা যখন প্রযুক্তির গতিতে এগোচ্ছে, তখন পুরোনো গতিতে প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, গাইডপয়েন্ট সিকিউরিটির প্রধান নিরাপত্তা প্রকৌশলী ট্র্যাভিস লেলে এটিকে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত চিন্তার বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন।
তবে ইএসইটি-র সাইবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক মুর মনে করেন, অ্যানথ্রোপিকের ‘ক্লদ মিথোস’ এবং চীনা স্টার্টআপ মুনশটের উন্মোচিত নতুন মডেল ‘কিমি কে৩’-এর ভিড়ে নিজেদের সক্ষমতা জাহির করতে ওপেনএআই এই বিষয়টিকে বিপণনের কৌশল হিসেবেও ব্যবহার করে থাকতে পারে।
সূত্র: বিবিসি