ঘাটতির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে বাড়ছে কফি ও চিনির দাম

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৯, | ১৪:৪২:২৭ |
ভিয়েতনামের প্রধান কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসের চাষিরা প্রতি কেজি কফি বিন প্রায় ৩ ডলার ৪৮ থেকে ৩ ডলার ৫০ সেন্টে (৯১ হাজার ৬০০-৯২ হাজার ডং) বিক্রি করেছেন। এর আগের সপ্তাহে যার দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮৯ থেকে সাড়ে ৮৯ হাজার ডং।

বিশ্ববাজারে কফি ও চিনির দাম ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বৈরী আবহাওয়া এবং প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোয় মজুদ কমে আসায় এ প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এ ঊর্ধ্বমুখীতার প্রভাব পড়েছে ভিয়েতনামের স্থানীয় বাজারেও। সেখানে নতুন করে বেড়েছে কফির দাম। একই সঙ্গে ইউরোপ ও ব্রাজিলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দামও বাড়ছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বিশ্বের শীর্ষ রোবাস্তা কফি উৎপাদনকারী দেশ ভিয়েতনামে গত এক সপ্তাহে স্থানীয় পর্যায়ে দাম বেশ বেড়েছে। দেশটির প্রধান কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসের চাষিরা প্রতি কেজি কফি বিন প্রায় ৩ ডলার ৪৮ থেকে ৩ ডলার ৫০ সেন্টে (৯১ হাজার ৬০০-৯২ হাজার ডং) বিক্রি করেছেন। এর আগের সপ্তাহে যার দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮৯ থেকে সাড়ে ৮৯ হাজার ডং।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বেশিরভাগ কৃষকের মজুত শেষ হয়ে আসায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। সেই সঙ্গে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তীব্র গরম ও ছত্রাকের আক্রমণের পাশাপাশি সেচ খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে আগামী দিনের ফলন নিয়ে শঙ্কিত কৃষকরা।

আন্তর্জাতিক বাজারে ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) গত শুক্রবার রোবাস্তা কফি প্রতি টন ৩ হাজার ৭৩১ ডলারে কেনাবেচা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কফির দাম গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯২০ ডলারে পৌঁছেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের ছুটির কারণে নিউইয়র্কের বাজারে অ্যারাবিকা কফি, অপরিশোধিত চিনি ও কোকোর লেনদেন বন্ধ ছিল।

সামান্য দাম কমলেও ব্রাজিল ও ভিয়েতনামের উৎপাদন সংকটের কারণে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো কফির বাজারে সামগ্রিকভাবে দাম ঊর্ধ্বমুখী। এল নিনোর প্রভাবে ভিয়েতনামে আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমের কফি উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় শীর্ষ রোবাস্তা উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কফি সংগ্রহের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে কফির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আফ্রিকার দেশ উগান্ডাতেও কফি উৎপাদন ও রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। চলতি বছরের মে মাসে দেশটিতে কফি রফতানি কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৪৯১ ব্যাগে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪৫ ব্যাগ। ইন্দোনেশিয়ায় কফি সংগ্রহ শুরু হলেও বাজারে কফির সরবরাহ আশানুরূপ নয়।

কফির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে সাদা চিনির দাম দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৪৮৭ ডলার ২০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপের তীব্র দাবদাহে চিনির উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো দাম বেড়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলের মধ্য-দক্ষিণ অঞ্চলে জুনের প্রথমার্ধে চিনি উৎপাদন ৩ শতাংশ কমেছে। তবে ভারতে ভালো বৃষ্টির পূর্বাভাসের কারণে চিনির এ দরবৃদ্ধি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অন্যদিকে লন্ডনের বাজারে কোকোর দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ৭২৬ পাউন্ডে নেমেছে। তবে শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ আইভরি কোস্টে আগামী মৌসুমে কোকো উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমে যাওয়ার পূর্বাভাসের কারণে বাজারে এর দাম এখনো চড়া রয়েছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..