বাবার শেষ বিদায়েও কি আড়ালেই থাকবেন মোজতবা খামেনি, রহস্য ঘনীভূত

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৯, | ১৪:১৪:১৭ |

নিহত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আজ শেষ হতে চলেছে। তার মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজা মাজারে, যা খামেনির জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। এর আগে গত রাতে ইরাকের কারবালা ও নাজাফ শহরে খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। 

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছে, খামেনির মরদেহ বহনকারী বিমানটি ইরাকের নাজাফ বিমানবন্দর থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

তবে এই দীর্ঘ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ঘিরে বর্তমানে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি ডালপালা মেলছে, তা হলো—নিহত আয়াতুল্লাহর ছেলে এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কি শেষ পর্যন্ত জনসমক্ষে উপস্থিত হবেন? দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোজতবাকে একবারের জন্যও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি দেশের মানুষের মনে তার শারীরিক অবস্থা এবং এই মুহূর্তে রাষ্ট্র আসলে কে পরিচালনা করছেন, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় তার বাবা, মা এবং স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হন, সেই একই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

মোজতবার প্রথমবার জনসমক্ষে আসাটা ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মুহূর্ত হবে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তিনি সম্পূর্ণ আড়ালে রয়েছেন এবং কেবল তার নামে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

এদিকে ইরানের ইসলামি প্রচার সমন্বয় পরিষদ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার পবিত্র কোম শহরে একটি বিশেষ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে, যা সরাসরি নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ ইমাম সৈয়দ মোজতবা খামেনির তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই ঘোষণার মাধ্যমে মোজতবা নিজেই সেখানে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, নতুন সর্বোচ্চ নেতার পক্ষে হয়তো অন্য কেউ এই সভার নেতৃত্ব দেবেন।

তবে কোম শহরে তার উপস্থিতি একেবারে অসম্ভবও নয়। শিয়া ধর্মীয় শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এবং ইরানের দ্বিতীয় পবিত্রতম এই শহরেই মোজতবা নিজে পড়াশোনা করেছেন। গত মঙ্গলবারও খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে এই শহরের রাস্তায় লাখো মানুষের ভিড় জমেছিল, তবে সেবারও নতুন সর্বোচ্চ নেতা অনুপস্থিত ছিলেন। এখন দেখার বিষয়, বাবার শেষ বিদায়ে তিনি শেষ পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে আসেন কি না।

সূত্র: সিএনএন

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..