✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৯, | ১৪:০৩:৫৫ |মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং নার্সদের রক্ত দেওয়ার এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল। গত বুধবার দুপুরে আশুগঞ্জের লালপুর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের হাসিনার (২৫) জরুরি অস্ত্রোপচারের সময় এই ঘটনা ঘটে।
একটোপিক প্রেগন্যান্সির কারণে টিউব ফেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মুমূর্ষু অবস্থায় গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক আব্দুর রহিমের স্ত্রী হাসিনাকে হাসপাতালে আনা হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিল কেবল ৭ বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুসন্তান সাদিয়া। স্বামী জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা নিয়ে বাইরে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে কোনো অভিভাবক ছিল না। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরা কালবিলম্ব না করে দ্রুত তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. জাকিয়া সুলতানা রুনা, ডা. জিনান রেজা এবং ডা. শামীমা রহমান সুমির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু হয়। অস্ত্রোপচারের জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এনেস্থেটিস্ট ডা. তৌহিদ আহমেদ চৌধুরী এবং ডা. অপর্ণা দাস অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ওটি-তে চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়োজিত ছিলেন সিনিয়র স্টাফ নার্স (এসএসএন) কামরুল ইসলাম ও ওটি ইনচার্জ মোছা. রুনা আক্তার।
অস্ত্রোপচার চলাকালীন সময়ে হঠাৎ রোগীর শরীরে জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু ওটি-র বাইরে রোগীর কোনো স্বজন ছিলেন না। হাসপাতালের ব্লাডব্যাংকও রক্ত সরবরাহ করতে পারছিল না। এই চরম সংকটকালীন মুহূর্তে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালীর তাৎক্ষণিক তদারকিতে কার্ডিওলজি ওয়ার্ডের ইনচার্জ রুকসানা আক্তার, স্টুডেন্ট নার্স তাসলিমা আক্তার জরুরি ভিত্তিতে রক্ত প্রদান করেন। এতে বেঁচে যায় সংকটাপন্ন ৪ সন্তানের জননী হাসিনার জীবন।
অস্ত্রোপচার শুরুর ৪৫ মিনিট পর রোগীর স্বামী আব্দুর রহিম হাসপাতালে পৌঁছান।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, আমাদের হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্সরা যেভাবে পেশাগত দায়িত্বের বাইরে গিয়ে নিজেদের রক্ত দিয়ে জরুরি অপারেশনের রোগীর জীবন বাঁচিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। এ ঘটনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের সেবার মান ও সুনামকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে। আমরা এই মানবতাবোধ বজায় রেখে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাব।