জামিন পাচ্ছেন দাদি, সাথে মুক্ত বাতাসে আড়াই বছরের আরাফ ও ৭ মাসের জাইফা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০২, | ১৮:৪২:৪৩ |

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে গৃহবধূ আয়েশা ছিদ্দিকা মুক্তার আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় অবশেষে জামিন পেয়েছেন তাঁর শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম। আর এই আদালতের আদেশের ফলে মায়ের মৃত্যুর পর কারাগারে বন্দি থাকা আড়াই বছরের শিশু আরাফ ও সাত মাস বয়সী শিশু জাইফা ইসলামও মুক্ত বাতাসে ফেরার সুযোগ পেল। 

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হান্নানের আদালত শুনানি শেষে মানবিক দিক বিবেচনায় মনোয়ারা বেগমের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

এরআগে গতকাল ১ জুলাই এই মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে মুক্তার স্বামী আরিফুল ইসলাম জিফাত (২৯), শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম এবং ননদ নাদিয়া আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। কোনো দেখভালকারী না থাকায় ওই সময় দুই অবুঝ শিশুকেও তাদের দাদি ও ফুফুর সঙ্গে কারাগারে যেতে হয়েছিল।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফোরকান মোহাম্মদ জানান, শাশুড়ি ও ননদের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। নাবালক দুই সন্তানের দেখভালের জন্য অন্য কোনো অভিভাবক না থাকায় আজ তাদের দাদির সঙ্গে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিতে দেখে দাদির জামিন মঞ্জুর করলেও ননদ নাদিয়া আক্তারের জামিন নামঞ্জুর করেন। ফলে শিশু দুটি এখন তাদের দাদির হেফাজতে থাকতে পারবে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল আরিফুল ইসলাম জিফাতের সঙ্গে আয়েশা ছিদ্দিকা মুক্তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ টাকা ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ১৩ লাখ টাকার মালামাল দেওয়া হলেও কিছুদিন পর থেকেই ব্যবসার জন্য আরও ৫ লাখ টাকা এবং দামি উপহারের দাবিতে মুক্তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তা তাঁর বাবাকে ফোনে কান্নাকাটি করে জানান, যৌতুকের টাকা না দিলে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর তিন দিন পর ২৮ ফেব্রুয়ারি চন্দনাইশ পৌরসভার হাজিপাড়া এলাকার নিজ শয়নকক্ষ থেকে মুক্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মুক্তার বাবা মনির আহমদ বাদী হয়ে চন্দনাইশ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে গত ৬ মে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মুক্তাকে সরাসরি হত্যা করা না হলেও স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ধারাবাহিক নির্যাতন এবং যৌতুকের দাবির কারণেই তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘শ্বাসরোধে আত্মহত্যা’র বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..