বিশ্বকাপে নতুন স্বপ্ন নিয়ে নামবে ‘কমলা বাহিনী’

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৩, | ২১:৫৬:৫০ |

ইয়োহান ক্রুইফ, মার্কো ফন বাস্তেন, রুড গুলিত, ডেনিস বার্গক্যাম্প কিংবা আরিয়েন রোবেন বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নেদারল্যান্ডস এমন অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলারের জন্ম দিয়েছে। সুন্দর ফুটবল, আক্রমণাত্মক কৌশল আর দৃষ্টিনন্দন পাসিংয়ের জন্য আলাদা পরিচিতি রয়েছে ডাচদের। কিন্তু এত প্রতিভা ও ইতিহাস থাকার পরও এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের শিরোপা জেতা হয়নি তাদের।

বিশ্বকাপের মঞ্চে নেদারল্যান্ডস বরাবরই অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ সালে তারা ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু প্রতিবারই শিরোপা অধরাই থেকে গেছে। বিশেষ করে ২০১০ সালের ফাইনালে স্পেনের কাছে হার আজও ডাচ সমর্থকদের কষ্ট দেয়।

সবশেষ কাতার বিশ্বকাপেও দারুণ সম্ভাবনা দেখিয়েছিল দলটি। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর পর টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের। সেই আক্ষেপ বুকে নিয়েই এবার আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে ‘কমলা বাহিনী’।

দ্বাদশবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস। ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত খেলেই জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। ‘জি’ গ্রুপে ৮ ম্যাচের ৬টিতে জয় এবং বাকি দুই ম্যাচে ড্র করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে এসেছে ডাচরা। এই সময়ে তারা করেছে ২৫ গোল, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ২টি।

এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, এবারের ডাচ দল কতটা ভারসাম্যপূর্ণ। তবে কোচ রোনাল্ড কোম্যান বাস্তবতাও মানছেন। তার মতে, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স বা স্পেনের মতো বড় ফেবারিট না হলেও যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রয়েছে তার দলের।

কোম্যান বলেন,‘মানুষ হয়তো আমাদের শিরোপার প্রধান দাবিদার মনে করছে না। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের শক্তি হলো, আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি।’

এবার ডাচদের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ। অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের নেতৃত্বে রক্ষণে আছেন নাথান আকে, মিকি ফন ডে ফেন ও জুরিয়েন টিম্বারের মতো নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। মাঝমাঠেও আছে দারুণ ভারসাম্য। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, রায়ান গ্রাভেনবার্খ ও তিজাননি রেইন্ডার্সদের নিয়ে গড়া মধ্যমাঠ প্রতিপক্ষের জন্য হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে চোটের কারণে সম্ভাবনাময় ডিফেন্ডার ম্যাথিয়াস ডি লিটকে না পাওয়া ডাচদের জন্য কিছুটা ধাক্কার।

বল দখলে রেখে দ্রুত ছোট ছোট পাসে আক্রমণে ওঠা এটাই নেদারল্যান্ডসের ফুটবলের সৌন্দর্য। ডাচদের খেলা বরাবরই ফুটবলপ্রেমীদের আলাদা আনন্দ দেয়। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে ইয়োহান ক্রুইফের বিখ্যাত ‘ক্রুইফ টার্ন’, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডেনিস বার্গক্যাম্পের অসাধারণ গোল কিংবা ২০১৪ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে রবিন ফন পার্সির অবিশ্বাস্য হেড সবই বিশ্বকাপ ইতিহাসের স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে। এবারও সমর্থকদের আশা, ডাচরা হয়তো আবারও উপহার দেবে এমন কোনো জাদুকরী মুহূর্ত।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..