✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৩, | ২১:৫০:১৪ |পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ জেলা-এর পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে কেনাবেচা। জেলার বিভিন্ন হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশেষ করে মাঝারি আকারের দেশীয় গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানির পশুর দাম কিছুটা বেশি। তবে বিক্রেতাদের দাবি, গো-খাদ্য ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় পশুর দাম সামান্য বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাটগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যাতে নির্বিঘ্নে কেনাবেচা সম্পন্ন হয়।
পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, খামারিরা বিভিন্ন আকারের গরু নিয়ে হাটে আসছেন। সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা দেশীয় খামারের গরুগুলো ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। অনেক গরুর ওজন ১০ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত। এসব গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৫ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া গ্রামাঞ্চলের কৃষক পরিবারের পালন করা দেশীয় জাতের গরুও হাটে উঠছে, যেগুলোর দাম ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ছোট-বড় প্রায় ১ হাজার ৫০০ খামারে প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশু লালন-পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ। এছাড়া পারিবারিকভাবে পালন করা হয়েছে আরও কয়েক হাজার পশু। এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৪৬ হাজার। ফলে স্থানীয়ভাবে পালন করা পশুতেই চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শনিবার দুপুরে দিনারপুর জনতার বাজার পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, জমজমাট কেনাবেচা চলছে। ক্রেতারা পছন্দের পশু ঘুরে ঘুরে দেখছেন এবং দরদাম করছেন। দাম মিলে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
কোরবানির পশু কিনতে আসা হেলাল উদ্দিন বলেন, হাটে ঘুরে ঘুরে গরু দেখছি। দুটি ষাঁড় পছন্দ হয়েছে। দাম নিয়ে আলোচনা চলছে, ঠিক হলে একটি কিনব।
আরেক ক্রেতা সজলু মিয়া বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি। গত বছর যে গরু ৭০ হাজার টাকায় কিনেছিলাম, এবার সেই ধরনের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা।
বিক্রেতা সাব্বির মিয়া বলেন, গরুর দাম খুব বেশি না। গো-খাদ্য ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে।
জনতার বাজার পশুর হাট কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী তোফায়েল আহমেদ বলেন, হাটে এখন ভালো কেনাবেচা হচ্ছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, বেচাকেনা আরও বাড়বে। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার, এখানে ক্রেতা-বিক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাবেচা করছেন।
হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম জানান, পশুর হাটগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে। প্রতারণা রোধে কয়েকটি টিম মাঠে দায়িত্ব পালন করছে বলেও তিনি জানান।