✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৩, | ২১:১৯:১৩ |চলমান বিশ্ব জ্বালানি সংকট এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সফরের প্রথম দিনে রাজধানী দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের নানামুখী চ্যালেঞ্জ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে হোয়াইট হাউস সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রুবিও। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি এই বৈঠককে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন।
ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথেই পরিবাহিত হয়। এই অচলাবস্থার কারণে ভারত চরম সংকটে পড়েছে, কারণ দেশটি তার প্রয়োজনীয় জ্বালানির ৮০ শতাংশের বেশি আমদানি করে এবং এর অর্ধেকই আসে এই প্রণালী দিয়ে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ভারতকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, জ্বালানি বাজারকে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই ইরানের কাছে জিম্মি হতে দেবে না। তিনি ভারতকে আশ্বস্ত করেছেন যে মার্কিন জ্বালানি পণ্য ভারতের এই সংকট কাটিয়ে উঠতে বিকল্প উৎস হিসেবে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি ওয়াশিংটন ভারতকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি জোগাতে প্রস্তুত বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমেরিকার দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল রুট দিয়ে জ্বালানি এনে ভারতের এই মুহূর্তের ঘাটতি মেটানো কতটা যুক্তিযুক্ত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাছাড়া ভারত জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া ছাড় আরও বাড়াতে দিল্লির পক্ষ থেকে চাপ দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকার সাথে ভারতের এই শীর্ষ বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বাণিজ্য নীতি এবং ভূ-রাজনীতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত সামরিক সংঘাতের অবসান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবি দিল্লি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব ও প্রশংসা দিল্লিকে কিছুটা ক্ষুব্ধ করেছে।
এর বাইরেও ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক আরোপের নীতির কারণে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে বড় ধাক্কা লেগেছিল, যা সম্প্রতি কিছুটা শিথিল হয়ে ১৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। এর বিপরীতে ভারত আমেরিকার কাছ থেকে প্রযুক্তি, বিমান এবং জ্বালানিসহ প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জ্বালানি ও বাণিজ্যের পাশাপাশি আগামী ২৬ মে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া 'কোয়াড' ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক নিয়েও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চীনকে মোকাবেলায় এক সময় এই জোটকে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ গুরুত্ব দিলেও, সাম্প্রতিক সময়ে কোয়াডের কার্যকারিতা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে চলতি বছরের শেষভাগে দিল্লিতে কোয়াড শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যোগ দেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলো উপস্থিত থাকবে। এমন এক বৈশ্বিক সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে মার্কো রুবিওর এই দিল্লি সফর ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি