✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৩, | ২১:১৬:০৭ |আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে এখন টুং টাং শব্দে মুখর কেরানীগঞ্জের কামারপল্লী। ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সরগরম হয়ে উঠছে কামারপাড়া। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে এসব এলাকা।
কেউ আগুনে লোহা গরম করছেন, কেউ হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি ও চাকু। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য প্রয়োজনীয় এসব সরঞ্জাম কিনতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন ক্রেতারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন কামারপল্লীতে এখন চলছে পুরোদমে কাজ। আগুনের তাপে লাল হয়ে ওঠা লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের লৌহজাত সরঞ্জাম। সারা বছর তুলনামূলক কম কাজ থাকলেও কোরবানির ঈদ এলেই কয়েক গুণ বেড়ে যায় কামারদের ব্যস্ততা।
কামাররা বলছেন, এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় কাজের চাপ বেশি। ঈদের এখনও কয়েক দিন বাকি থাকলেও আগেভাগেই অনেক অর্ডার পাচ্ছেন তারা। এতে কামারপল্লীতে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য।
হিরা কর্মকার নামের এক কামার বলেন, ৫৫ বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে আছি। অনেকেই এখন অন্য পেশায় চলে গেছেন। কিন্তু আমরা এই কাজই করে যাচ্ছি। সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। ঈদের সময়টাতেই কিছু বেশি আয় হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে বড় দা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, চাপাতি ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা, বিভিন্ন ধরনের ছোরা ১৫০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ছোট ছোরা ৩০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বঁটি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। এছাড়া পুরোনো দা-বঁটিতে ধার দেওয়ার কাজও চলছে।
হিরা কর্মকার আরও বলেন, কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি টিন কয়লা কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। তবু ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দিনরাত কাজ করছেন তারা।
কলাতিয়া এলাকার রামবাবু কর্মকার বলেন, এখন সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করেও শেষ করা যাচ্ছে না। ঈদের সময়টায় প্রচুর কাজ থাকে। প্রতিদিন পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকার বিক্রি হয়। কিন্তু বছরের বাকি সময় সংসার চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়ে।
কামারপল্লীতে সরঞ্জাম কিনতে আসা হামিদুর রহমান বলেন, ঈদে নামাজ শেষে আমরা নিজেরাই পশু জবাই করি। তাই দা ও ছুরি কিনতে এসেছি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার দাম অনেক বেশি। আরেক ক্রেতা রাব্বি বলেন, ভালো মানের দা ও ছুরির চাহিদা বেশি। তাই একটু দাম বেশি হলেও টেকসই জিনিস কেনার চেষ্টা করছি।