মধ্যবিত্তরাও এখন টিসিবিমুখী,আরো পণ্য বাড়ানোর দাবি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১৫, | ১১:৪৯:৪২ |

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে নাকাল সাধারণ মানুষ। বাজারে ডিম, ভোজ্যতেল, সবজি, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

বাজারে কোনো পণ্যে স্বস্তি না মেলায় কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় অনেকের ভরসা এখন সরকারের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল। তবে ক্রেতার চাপ বাড়ায় এবং চাহিদার তুলনায় পণ্যের সরবরাহ কম থাকায় অনেককে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা শেষে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিসিবির ট্রাকসেলের সামনে প্রতিদিনই বাড়ছে নিরুপায় মানুষের ভিড়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিউমার্কেট, আসাদগেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ট্রাকসেলে বিক্রি শুরু হওয়ার আগেই কয়েক শ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে।

নারী, বয়স্ক মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক থেকে চাকরিজীবী মানুষ স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে লাইনে অপেক্ষায়। অনেকের অভিযোগ, সীমিত সরবরাহের কারণে সবাই পণ্য পাচ্ছেন না। গতকাল রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ট্রাকসেলে পণ্য বিক্রি করছিলেন টিসিবির ডিলার ও ঝালকাঠী জেনারেল স্টোর। টানা দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গৃহিণী শান্তা আক্তার বলেন, ‘আগে বাজার থেকে যা কিনতাম, এখন তার অর্ধেকও কিনতে পারি না। সব কিছুর দাম অনেক বেশি। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তাই বাজারের চেয়ে কিছুটা কম দামে তেল, ডাল কিনতে এই লাইনে দাঁড়িয়েছি।’

রিকশাচালক মো. বেলাল বলেন, ‘দিনে যা আয় করি, তার বড় অংশ খাবারের পেছনে চলে যায়। বাজারে গেলে মনে হয় সব কিছুর দাম আগুন। বাজার থেকে দুই লিটার তেল কিনতে ৪০০ টাকা এবং দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে ২২০ থেকে ২৪০ টাকার মতো লাগে। এখান থেকে দুই লিটার তেল ২৬০ টাকা এবং দুই কেজি ডাল ১৪০ টাকায় পাচ্ছি। টিসিবি না থাকলে পরিবার নিয়ে চলা আরো কঠিন হতো।’

টিসিবির ডিলার ও ঝালকাঠী জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা নওশাদ নাসির বলেন, ‘আজ (গতকাল) পণ্য নিতে প্রচুর মানুষ এসেছিল। দুপুর ২টার মধ্যে সব পণ্য শেষ হয়ে যায়। আমরা ৪০০ জনের বেশি মানুষকে পণ্য দিতে পারিনি। অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও প্রত্যাশিত পণ্য না পেয়ে ফিরে গেছেন। এতে আমাদের অনেক খারাপ লাগে। কিন্তু কিছু করার নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ, এলাকাভেদে পণ্যের পরিমাণ বাড়ানো হোক।’

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ১১ মে থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে ট্রাকে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করে টিসিবি। এই কার্যক্রম চলবে ১০ দিন। ট্রাকসেল থেকে একজন ক্রেতা এক কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল ও দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন। এক কেজি চিনি ৮০ টাকা, দুই কেজি মসুর ডাল ১৪০ টাকা এবং দুই লিটার সয়াবিন তেল ২৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তিনটি পণ্যের এই প্যাকেজ কিনতে খরচ হচ্ছে ৪৮০ টাকা।

টিসিবি সূত্র জানায়, একই পরিমাণ পণ্য বাজার থেকে কিনতে প্রায় ৭৩০ টাকার মতো খরচ হয়। প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাকসেল পয়েন্টে অন্তত ৪০০ জন ক্রেতার হাতে এসব পণ্য তুলে দেওয়া হচ্ছে। কম দামে পণ্য পাওয়ায় প্রতিটি পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ঠেলাঠেলি ও হুড়াহুড়ির ঘটনাও ঘটছে।

রাজধানীর আসাদগেটে সেন্ট জোসেফ স্কুলের সামনে টিসিবির ডিলার ও সাজেদা জেনারেল স্টোর ট্রাকসেলে পণ্য বিক্রি করছিল। মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে পণ্য নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত রতন সরকার। তিনি বলেন, ‘লাজ-লজ্জা রেখে কী হবে? সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কিছু টাকা সাশ্রয়ের জন্যই লাইনে দাঁড়িয়েছি।’

এদিকে বাজারে মাছ-মাংস, ডিম, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির চাপে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আয় না বাড়লেও বাজারে বাড়তি খরচের চাপ থামছেই না। বাজারে বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম বাড়ায় ডিমের চাহিদাও বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের লাল ডিম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে এক হালি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা। মুরগির বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাজার তদারকি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..