যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের দেনাকে ছাড়িয়ে গেছে গাড়ির ঋণ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-১২, | ১৮:৫৬:৩৯ |
বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক পরিবার এখন বাড়ি বা শিক্ষা ঋণের পাশাপাশি গাড়ির কিস্তি পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে। নতুন গাড়ির উচ্চ দাম ও বাড়তি সুদের কারণে এ চাপ আরো বেড়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে ঋণের বোঝা নতুন কিছু নয়। দেশটির কোটি কোটি মানুষ মর্টগেজ, শিক্ষা ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের দেনায় জর্জরিত। অনেকের ক্ষেত্রে এ তিন ধরনের ঋণ একসঙ্গেও রয়েছে। তবে এখন ঋণের আরেকটি বড় উৎস হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত গাড়ি। সাধারণ আমেরিকানদের জন্য গাড়ির ঋণ ধীরে ধীরে বড় আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর ফরচুন।


সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গাড়ি কেনার জন্য আমেরিকানদের ঋণ এখন সব মিলিয়ে ১ দশমিক ৬৮ ট্রিলিয়ন ডলার।"অর্থের এ সংখ্যা দেশটির মোট ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের (১ দশমিক ৬৯ ট্রিলিয়ন ডলার) প্রায় সমান এবং ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণের (১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন ডলার) চেয়ে অনেক বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক পরিবার এখন বাড়ি বা শিক্ষা ঋণের পাশাপাশি গাড়ির কিস্তি পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে। নতুন গাড়ির উচ্চ দাম ও বাড়তি সুদের কারণে এ চাপ আরো বেড়েছে।

সেঞ্চুরি ফাউন্ডেশন নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি চার নাগরিকের মধ্যে একজন গাড়ির ঋণ শোধ করতে পারছেন।

দেশটিতে কয়েক বছরে গাড়ির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে মূল্যস্ফীতির তুলনায় দ্রুতগতিতে বেড়েছে গাড়ির দাম। যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতে মানুষ মূলত ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীল। তাই দাম বাড়লেও মানুষ গাড়ি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে এটি এখন অনেক পরিবারের মাসিক বাজেটের সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদেন অনুযায়ী, বর্তমানে একটি গাড়ির গড় মাসিক কিস্তি প্রায় ৬৮০ ডলার, যা ২০১৮ সালে ছিল ৫০৬ ডলার। সাত-আট বছরে কিস্তির পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। কোনো ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তি ৭৬০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জেডি পাওয়ার নামে এক সংস্থা।

গাড়ির বাড়তি দামের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর। ঋণের কিস্তি কমানোর জন্য তারা দীর্ঘমেয়াদি লোন নিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে কিস্তি শোধ করার কারণে সুদের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, যেসব ঋণগ্রহীতা সাত বছরের বেশি মেয়াদি লোন নিয়েছেন, তাদের আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ চলে যাচ্ছে শুধু গাড়ির কিস্তি দিতেই।

তথ্য বলছে, কম্পিউটার চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের সংকটে ২০২১ সাল থেকে নতুন গাড়ির দাম বাড়তে শুরু করে। এরপর আর কমেনি। বর্তমানে একটি নতুন গাড়ির গড় দাম প্রায় ৫০ হাজার ডলার, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।

বিশ্বজুড়ে গাড়ির দাম বাড়ার পেছনে আরো কিছু কারণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা। যেমন বর্তমানের গাড়িগুলোয় রিয়ার ভিউ ক্যামেরা বা অ্যাসিস্টেড স্টিয়ারিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া গাড়ি নির্মাতারা এখন বেশি মুনাফার আশায় দামি বা বিলাসবহুল গাড়ি তৈরিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। ফলে বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ির সংখ্যা কমছে। আবার নতুন গাড়ির দাম বাড়লে মানুষ সাধারণত পুরনো বা ব্যবহৃত গাড়ি কেনে। কিন্তু বাজারে সংকট থাকায় ব্যবহৃত গাড়ির দামও এখন মহামারীর আগের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গাড়ি বিক্রির তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির একটি বৈষম্য চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০২০ সালে নতুন গাড়ি ক্রেতাদের অর্ধেকই ছিলেন বার্ষিক ১ লাখ ডলারের কম আয়ের মানুষ। গত বছর সে ক্রেতাদের হার কমে ৩৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বার্ষিক ২ লাখ ডলারের বেশি আয়ের ক্রেতার সংখ্যা ১৮ থেকে বেড়ে ২৯ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ নিম্ন আয়ের মানুষের নতুন গাড়ি কেনা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

পাশাপাশি কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার হারও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে সাবপ্রাইম অটো লোন বা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের ক্ষেত্রে কিস্তি খেলাপির হার ৩২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..