এ বিশাল অঙ্কের কর আরোপ করা হয়েছিল স্যামসাংয়ের প্রয়াত চেয়ারম্যান লি কুন-হির রেখে যাওয়া সম্পদের ওপর, যিনি ২০২০ সালের অক্টোবরে মারা যান।
দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী স্যামসাং পরিবারের সদস্যরা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উত্তরাধিকার কর পরিশোধ সম্পন্ন করেছেন। প্রায় ১২ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার) পরিমাণ এ কর বিলটি গত পাঁচ বছরে ছয় কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়েছে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ বিশাল অঙ্কের কর আরোপ করা হয়েছিল স্যামসাংয়ের প্রয়াত চেয়ারম্যান লি কুন-হির রেখে যাওয়া সম্পদের ওপর, যিনি ২০২০ সালের অক্টোবরে মারা যান।
এ কর পরিশোধে নেতৃত্ব দেন বর্তমান চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ং। তার সঙ্গে ছিলেন পরিবারের অন্য সদস্য মা হং রা-হি এবং দুই বোন লি বু-জিন ও লি সিও-হিউন। দক্ষিণ কোরিয়ায় উত্তরাধিকার করের হার প্রায় ৫০ শতাংশ, যা বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ। ফলে লি কুন-হির প্রায় ২৬ ট্রিলিয়ন ওনের সম্পদের ওপর বিপুল অঙ্কের কর নির্ধারিত হয়।
স্যামসাং জানিয়েছে, পরিশোধিত করের পরিমাণ ২০২৪ সালে দেশটির মোট উত্তরাধিকার কর আদায়ের প্রায় দেড় গুণের সমান। এ কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের নজরে ছিল, কারণ এত বড় কর পরিশোধের ফলে স্যামসাং পরিবারের কোম্পানির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারত।
লি কুন-হির সম্পদের মধ্যে ছিল শেয়ার, স্থাবর সম্পত্তি এবং বিপুল শিল্পকর্মের সংগ্রহ। এসবের একটি অংশের মধ্যে পাবলো পিকাসো ও সালভাদর দালির কাজও রয়েছে। যা জাতীয় জাদুঘর ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে দান করা হয়েছে। কর পরিশোধের সময় পরিবারটি বলেছিল, কর দেওয়া নাগরিকদের স্বাভাবিক দায়িত্ব।
স্যামসাং দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় ‘চ্যাবল’ বা পরিবারনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা গোষ্ঠী। ইলেকট্রনিক্স, ভারী শিল্প, নির্মাণ ও আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর কার্যক্রম বিস্তৃত। বিশেষ করে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্মার্টফোন ও টেলিভিশন প্রস্তুতকারক এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রধান খেলোয়াড়।
সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে কম্পিউটার চিপের বাজারে উত্থান হয়েছে, যা স্যামসাংয়ের শেয়ারমূল্য বাড়াতে সহায়তা করেছে। এর ফলে পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে স্যামসাং পরিবারের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
১৯৩৮ সালে লি বিং-চুলের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত স্যামসাং এখনো পরিবারনিয়ন্ত্রিত নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ জাতীয় আরো খবর..