কারাবন্দি ইরানি মানবাধিকার কর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গেস মোহাম্মদীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার পরিবার ও তার প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যথাযথ চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অবিলম্বে জানজান শহর থেকে রাজধানী তেহরানে স্থানান্তরের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
গত মার্চ মাসে কারাগারে থাকাকালীন হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই মোহাম্মদীর পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানিয়ে আসছিল। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অবশেষে তাকে জানজান শহরের একটি হাসপাতালের কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। তবে তার ভাই হামিদরেজা মোহাম্মদী সিএনএনকে জানিয়েছেন, জানজানের প্রসিকিউটররা তাকে সেখানে আটকে রেখে উন্নত চিকিৎসা প্রাপ্তিতে বাধা দিচ্ছেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কর্তৃপক্ষ সম্ভবত তার মৃত্যু চাইছে এবং বর্তমানে তারা মোহাম্মদীর জীবন বাঁচানোর লড়াই চালাচ্ছেন।
নার্গেস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হাসপাতালে তাকে শুধুমাত্র রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন স্থিতিশীল রাখার মতো অত্যন্ত সাধারণ চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু তার অসুস্থতার মূল কারণগুলো এখনো শনাক্ত বা সমাধান করা হয়নি। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিশ্বের একমাত্র কারাবন্দি নোবেল বিজয়ীর স্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ইরান সরকারের এবং তার কোনো ক্ষতি হলে তার দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে ইরানে নারীদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং মানবাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়া নার্গেস মোহাম্মদী ২০২৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকির অভিযোগে তিনি বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ভোগ করছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসেও তার কারাদণ্ডের মেয়াদ আরও সাত বছর বাড়ানো হয়। বর্তমানে তিনি মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক চাপ ও বমিভাব নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন, যার ফলে তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
সূত্র: সিএনএন
এ জাতীয় আরো খবর..