যুক্তরাজ্যের মোট ফ্যাশন লেনদেনের এক-চতুর্থাংশই দখল করে আছে সেকেন্ড-হ্যান্ড পোশাক, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭০০ কোটি পাউন্ড। তবে এ বাণিজ্যিক উত্থানই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান অর্থের মোহে নামি ব্র্যান্ডের শোরুম ছেড়ে সাধারণ ভিনটেজ শপগুলোয় হানা দিচ্ছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র
মহামারী-পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভিনটেজ পোশাক খাত। ২০২৬ সালের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের মোট ফ্যাশন লেনদেনের এক-চতুর্থাংশই দখল করে আছে সেকেন্ড-হ্যান্ড পোশাক, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭০০ কোটি পাউন্ড। তবে এ বাণিজ্যিক উত্থানই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান অর্থের মোহে নামি ব্র্যান্ডের শোরুম ছেড়ে সাধারণ ভিনটেজ শপগুলোয় হানা দিচ্ছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। খবর বিবিসি।
লন্ডনের বিখ্যাত পোর্টোবেলো রোডের ‘লাভার্স লেন লন্ডন’ নামের একটি ভিনটেজ স্টোর গত কয়েক বছর ধরে দফায় দফায় হামলার শিকার হয়েছে। স্টোরটির প্রতিষ্ঠাতা শার্লট কোহু জানান, অপরাধীরা এখন আর শুধু সুযোগসন্ধানী নয়, বরং তারা অত্যন্ত পেশাদার।
গেল বছরের অক্টোবরে স্টোরটিতে একটি ‘র্যাম-রেইড’ (যানবাহন দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢোকা) হামলার ঘটনা ঘটেছে। মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি স্লেজহ্যামার ও ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে দোকানের দুই টন ওজনের স্টিলের শাটার ভেঙে ফেলে। সেসময় প্রায় ৪ লাখ পাউন্ড মূল্যের মূল্যবান ব্যাগ ও আর্কাইভাল পোশাক লুট করে চোর চক্র। শার্লট বলেন, ‘মানুষ এখন শ্যানেল বা গুচির শোরুম লুট করতে চায় না, কারণ আসল অর্থ এখন ভিনটেজ পিসগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে।’
স্থাপত্য নিরাপত্তা থাকলেও যেখানে চোর ঠেকানো যাচ্ছে না, সেখানে খোলা আকাশের নিচে বসা পোর্টোবেলো মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আরো বেশি অসহায়। ১৫ বছর বয়স থেকে ভিনটেজ পোশাক বিক্রি করছেন খালেদ আইন্সওয়ার্থ। সম্প্রতি ৩০০ পাউন্ড মূল্যের এক জোড়া জিন্স চুরি হয়ে যাওয়ায় তিনি মুষড়ে পড়েছেন। খালেদের মতে, চুরির ধরন দেখে পরিষ্কার বোঝা যায় এর পেছনে বড় কোনো চক্র কাজ করছে।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশটিতে দোকান চুরির ঘটনা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ব্রিটিশ ইন্ডিপেন্ডেন্ট রিটেইল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু গুডএক্রে জানান, অপরাধী চক্রগুলো এখন মাদকাসক্ত বা অসহায় মানুষকে ‘শপলিফটিং’-এর জন্য ভাড়া করছে।
নির্দিষ্ট কোনো দামী ভিনটেজ পোশাক বা ব্যাগের জন্য গ্যাংগুলো আগে থেকেই ফরমায়েশ পায় এবং সে অনুযায়ী চুরির ঘটনা ঘটে। তারপর সেকেন্ড-হ্যান্ড কেনাবেচার অ্যাপগুলো ব্যবহার করে চোরাই মাল দ্রুত বাজারে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থা কলুষিত হচ্ছে।
সংকটের মুখে অনেক ব্যবসায়ী তাদের দোকানের নিরাপত্তা বাড়িয়ে অনেকটা ‘ফোর্ট নক্স’ বা সুরক্ষিত দুর্গের মতো করে তুলেছেন। লাভার্স লেনের মালিক কিম্বার্লি জানান, বিপুল ক্ষতির পরও তারা টিকে আছেন শুধু স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংহতি আর মানুষের ভালোবাসায়। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, অনলাইনে সস্তায় ভিনটেজ পোশাক কেনার সময় ক্রেতাদের অবশ্যই যাচাই করা উচিত যে সেগুলো চুরির কি-না।
এ জাতীয় আরো খবর..