জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি

অন্তত এক বেলা না খেয়ে থাকছে যুক্তরাজ্যের ৩০ লাখ পরিবার

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-০৩, | ১৭:০২:১৮ |
জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্যে। খরচ সামলাতে হিমশিম খেয়ে দেশটির প্রায় ৩০ লাখ পরিবার অন্তত একবেলার নিয়মিত খাবার বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছে।

ব্রিটিশ ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘হুইচ?’-এর সাম্প্রতিক জরিপ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে সাধারণ মানুষ এখন চরম পথ বেছে নিচ্ছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ভোক্তা আস্থায় বড় ধস
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এপ্রিল পর্যন্ত ব্রিটেনে ভোক্তা আস্থার সূচক কমে -৬২ পয়েন্টে নেমেছে। এটি ২০২২ সালের সংকটের পর সর্বনিম্ন পর্যায়। এর আগের মাসেও এ সূচক ছিল -৫৬ পয়েন্টে।

জরিপে অংশ নেয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ৭১ শতাংশই মনে করছেন, আগামী ১২ মাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির আরো অবনতি হবে। কেবল ৯ শতাংশ মানুষ পরিস্থিতি উন্নতির আশা করছেন। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ে এখন ৮৫ শতাংশ ব্রিটিশ চরম উদ্বিগ্ন।

খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন
দেশটির অনেক পরিবার খরচ কমাতে তাদের বাজার করার ধরনে বড় বদল এনেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৪৩ শতাংশ ক্রেতা এখন সস্তা পণ্য খুঁজছেন। ৩৭ শতাংশ মানুষ সুপারমার্কেটগুলোর নিজস্ব ব্র্যান্ডের বাজেট পণ্য কিনছেন। এছাড়া ৩১ শতাংশ ক্রেতা ছাড় বা সেলে থাকা পণ্যের অপেক্ষায় থাকেন। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে একটি এখন অন্তত এক বেলার খাবার বাদ দিচ্ছে। এছাড়া প্রতি সাতজনে একজন তাদের প্রয়োজনীয় কোনো না কোনো খাদ্য উপাদান কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাবারের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে ৮০ শতাংশ মানুষের। ফেব্রুয়ারিতেও এ হার ছিল অনেক কম। সংকটের কারণে ব্রিটিশ নাগরিকদের দুই-তৃতীয়াংশই এখন গাড়ি চালানো কমিয়ে দিয়েছেন। শখের ভ্রমণ বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের সামাজিক সম্পর্কের ওপরও।

বকেয়া বিলের বোঝা
আর্থিক সংকটের কারণে সময়মতো বিল পরিশোধ করতে পারছেন না অনেকেই। গত তিন মাসে বিল পরিশোধ না করার গড় হার বেড়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের শেষে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। হুইচের বিশ্লেষকরা বলছেন, মানুষ এখন দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা মেটাতেই বেশি হিমশিম খাচ্ছেন।

সংস্থাটির নীতি ও অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর রোসিও কনচা জানান, এ সংকট কেবল মানুষের পকেটেই টান দিচ্ছে না, এটি তাদের শারীরিক ও সামাজিক সুস্থতাকেও বিপন্ন করছে। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে এবং মানুষ আরো চরম পথ বেছে নেবেন।

হুইচ? এরই মধ্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি ইশতাহার পেশ করেছে। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আর বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের অস্থিরতা ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। রেকর্ড মূল্যস্ফীতির জোড়া ধাক্কা সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নীতিমালায় বড় পরিবর্তন না এলে এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..