মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে লেগেছে সাধারণ মানুষের পকেটে।
যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিশ্বজুড়ে এখন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) চাহিদা বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে ভিয়েতনামসহ বিশ্বের সবখানেই ক্রেতারা এখন ভিড় করছেন ইভির শোরুমগুলোয়। খবর আল জাজিরা।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বাজারের অস্থিরতা থেকে বাঁচতে মানুষ এখন স্থায়ী সমাধান খুঁজছে। সিডনিভিত্তিক ‘অ্যামেজিং ইভি’র মালিক রসকো জুয়েল আগে একটি পুরনো ইভি বিক্রি করতে পারতেন প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর। কিন্তু ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তার ব্যবসার চিত্র বদলে গেছে।
তবে বাজারের তথ্য বলছে, চাহিদা বাড়ায় এখন ২০-৫০ হাজার ডলারের মধ্যে পুরনো গাড়ি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি গাড়ির দামও ১০-২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
২০২৫ সালে ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে কিছুটা মন্দা থাকলেও এখন তা কাটতে শুরু করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে গত এক মাসে ইভি বিক্রিতে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। চীনে গত মার্চে ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রির হার আগের মাসের তুলনায় ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি গত মাসে ৮২ হাজারেরও বেশি ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এটি ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
এদিকে ভিয়েতনামের স্থানীয় ব্র্যান্ড ‘ভিনফাস্ট’ গত বছরের তুলনায় ১২৭ শতাংশ বেশি গাড়ি বিক্রি করেছে। একই সঙ্গে জাপানে ইভি বিক্রির হার গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এ প্রবৃদ্ধির হার ১৭২ শতাংশ। ইউরোপের চিত্রও একই রকম। তথ্য বলছে, ফ্রান্সে টেসলা গাড়ির নিবন্ধন বেড়েছে তিন গুণ। এছাড়া নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কের মতো দেশগুলোয়ও ইভির চাহিদা এখন তুঙ্গে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইউয়ান গ্রাহাম মনে করেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর ইরান যুদ্ধ মানুষকে জ্বালানি তেলের বিকল্প নিয়ে নতুন করে ভাবাচ্ছে। তিনি একে ‘স্থায়ী পরিবর্তন’ হিসেবে দেখছেন। মানুষ যখনই জ্বালানি সংকটে পড়ে, তখনই বিকল্প সমাধানের দিকে ঝোঁকে। এ মুহূর্তে বিদ্যুচ্চালিত গাড়িই সবচেয়ে শক্তিশালী বিকল্প বলে মনে করেন তিনি।
সিডনির বিওয়াইডি ডিস্ট্রিবিউটর ইভিডিরেক্টের প্রধান ডেভিড স্মিদারম্যান জানান, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। মানুষ এখন চায় তাদের যাতায়াত খরচ যেন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। মেলবোর্নের ইভলভ মোটরসের কেভিন আলবেরিকা জানান, তার একজন কর্মী এক শনিবারেই সাতটি টেসলা গাড়ি বিক্রি করেছেন। শোরুমে থাকা ১০০টি টেসলার এখন প্রায় সবই শেষ। নতুন গাড়ি এনেও তিনি কুলিয়ে উঠতে পারছেন না।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অস্ট্রেলিয়া কয়লা ও গ্যাস রফতানি করলেও দেশটির জ্বালানি তেলের ৮০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। গত মাসেই অস্ট্রেলিয়া সরকার জানায়, তাদের হাতে মাত্র এক মাসের জ্বালানি মজুদ আছে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ দ্রুত ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছে। গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় মোট গাড়ি বিক্রির ১৪ দশমিক ৬ শতাংশই ছিল ব্যাটারিচালিত ইভি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ হার প্রায় দ্বিগুণ।
এ জাতীয় আরো খবর..