✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-৩০, | ১৩:১২:৫৫ |সিলিকন ভ্যালির দুই টেক জায়ান্ট ইলোন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যানের দীর্ঘদিনের অনলাইন বিবাদ এবার প্রকাশ্যে এসেছে। মঙ্গলবার থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের কাঠগড়ায় মুখোমুখি হয়েছেন এক সময়ের ঘনিষ্ঠ এ দুই বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার। আগামী এক মাস বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবোদ্ধাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এ বিচার প্রক্রিয়া। খবর বিবিসি।
একজন বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে ২০১২ সালে মাস্ক ও অল্টম্যানের পরিচয় হয়। অল্টম্যান তখন বিশের কোঠায় থাকা এক তরুণ উদ্যোক্তা। আর মাস্ক টেসলা ও স্পেসএক্সের কল্যাণে বিশ্বজুড়ে পরিচিত নাম। অল্টম্যানের হাত ধরেই ওপেনএআইয়ের ধারণাটি মাস্কের কাছে পৌঁছায়। সেসময় তারা এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বানাতে চেয়েছিলেন যা ব্যবসার জন্য নয়, বরং মানুষের উপকারে আসবে। সে লক্ষ্যে ২০১৫ সালে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘ওপেনএআই’ যাত্রা শুরু করে।

তবে প্রতিষ্ঠার দুই বছর পরেই তাদের সম্পর্কে ফাটলের সূত্রপাত হয়। মাস্কের অভিযোগ, মহৎ উদ্দেশ্যে বিশ্বাস করে তিনি শুরুতে প্রায় ৪ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন চ্যাটজিপিটি জনপ্রিয় হওয়ার পর অল্টম্যান ও তার সহযোগীরা অবৈধভাবে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটিকে মুনাফামুখী সত্তায় রূপান্তর করেছেন।
অন্যদিকে, ওপেনএআই মামলাটিকে স্রেফ ‘ঈর্ষা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের পাল্টা যুক্তি, ২০১৭ সালে মাস্ক নিজেই প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে শর্ত ছিল তাকে এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সিইও পদ দিতে হবে। সেই দাবি প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ২০১৮ সালে ওপেনএআই ছাড়েন তিনি। যাওয়ার আগে ইমেইলে তিনি লিখেছিলেন ‘আমি আর তোমাদের স্টার্টআপের জন্য বিনামূল্যে অর্থ যোগান দিয়ে বোকা হতে চাই না।’
২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি বাজারে আসার পর বিশ্বজুড়ে হইচই পড়ে যায়। মাইক্রোসফটের বিপুল বিনিয়োগে ওপেনএআই যখন সাফল্যের তুঙ্গে, তখনই ২০২৪ সালে মাস্ক মামলা ঠুকে দেন। মাস্কের ক্ষোভ মূলত মাইক্রোসফটের ওপর। তিনি দাবি করছেন, ওপেনএআই এখন আর সবার কল্যাণে কাজ করছে না। বরং তার অর্থে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে মাইক্রোসফটের মুনাফা অর্জনের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। পুরো বিষয়টিকে তিনি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বা ‘প্রতারণা’ হিসেবে দেখছেন। মাস্ক চাইছেন, আদালতের বিচারে অল্টম্যানকে সরিয়ে দেয়া হোক এবং ওপেনএআই যেন আবার তার পুরনো অলাভজনক আদর্শে ফিরে যায়।

মামলার পর থেকে মাস্ক ও অল্টম্যানের সম্পর্ক প্রকাশ্য শত্রুতায় রূপ নিয়েছে। গত বছর মাস্ক ৯ হাজার ৭৪০ কোটি ডলারে ওপেনএআই কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই সময় অল্টম্যান উপহাস করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (এক্সে) লিখেছিলেন, আমরা বরং ৯ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন (৯ হাজার ৭৪০ কোটি) ডলারে টুইটার কিনে নিতে চাই।
একসময় মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গকেও সঙ্গে নিয়ে ওপেনএআই কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন মাস্ক। কলাম্বিয়া ল স্কুলের অধ্যাপক ডরোথি লুন্ডের মতে, মাস্ক বারবার প্রতিষ্ঠানটি দখলে নিতে ব্যর্থ হয়ে এখন মামলার আশ্রয় নিচ্ছেন।
এ লড়াইকে ‘কিং কং বনাম গডজিলা’র যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অকল্যান্ডের আদালতে বিচারক ইভন গঞ্জালেজ রজার্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মাস্ক বা অল্টম্যানের তারকা খ্যাতি বিচারে কোনো বিশেষ সুবিধা দেবে না। ৯ সদস্যের জুরি বোর্ডের সামনে এ বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষী হিসেবে হাজির হতে পারেন মাইক্রোসফট প্রধান সত্য নাদেলা ও ওপেনএআই-এর প্রাক্তন শীর্ষ বিজ্ঞানীরা। এমনকি মাস্কের সন্তানদের মা ও ওপেনএআই-এর সাবেক বোর্ড সদস্য শিভন জিলিসকেও আদালতে সাক্ষ্য দিতে হতে পারে।