মিউজিক কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’। খুব শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। মুক্তির আগেই যা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠেছে- সিনেমাটি কি তার জীবনের পুরো সত্যটা তুলে ধরতে পারবে?
এর আগে বোহেমিয়ান র্যাপসোডি নামের বায়োপিকটি নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে নির্মিত হয়েছিল। শুরুতে সাচা ব্যারন কোহেন প্রধান চরিত্রে থাকার কথা থাকলেও পরে তিনি সরে দাঁড়ান, আর পরিচালক ব্রায়ান সিঙ্গারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এত বিতর্ক সত্ত্বেও সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এবং চারটি অস্কার জেতে।
এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ওই সিনেমার প্রযোজক গ্রাহাম কিং ২০১৯ সালে ঘোষণা দেন, তিনি আরেকজন বিশ্বখ্যাত সংগীত তারকা-মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে বায়োপিক নির্মাণ করবেন।
তবে ‘মাইকেল’ সিনেমাটির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জ্যাকসনের বিরুদ্ধে ওঠা শিশু নির্যাতনের অভিযোগ। ১৯৯৪ সালে জর্ডান চ্যান্ডলার নামের এক অভিযুক্তের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতায় পৌঁছান তিনি। পরে ২০০৫ সালে ১৩ বছর বয়সী এক ছেলেকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হওয়া মামলায় তিনি আদালতে খালাস পান।
জ্যাকসনের এস্টেট এবং এর নির্বাহীদের আইনজীবীরা জানিয়েছে, তারা “দৃঢ়ভাবে এবং নিঃসন্দেহে” বিশ্বাস করেন যে মাইকেল জ্যাকসন নির্দোষ ছিলেন, যা আদালতের রায়ে এবং বিভিন্ন প্রমাণে সমর্থিত।
চলচ্চিত্রটি দর্শকদের সামনে মাইকেল জ্যাকসনের গৌরবময় ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের জটিল দিকগুলো কীভাবে তুলে ধরবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তবুও অভিযোগগুলো মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের অংশ হিসেবেই রয়ে গেছে, যা তার জীবনকে শত কোটি ডলারের হলিউড ব্লকবাস্টার হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তোলে। তবে বর্তমান সময়ে এই পপ তারকাকে ঘিরে যে চাহিদা রয়েছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে ছবিটি বড় হিট হতে পারে।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, ‘মাইকেল’ চলচ্চিত্রটি ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র চেয়েও বড় সাফল্য পেতে পারে।