দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের আগে ও পরে কিছু সুন্নতে মুআক্কাদা রয়েছে, যা ইবাদতের পূর্ণতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে বা সময়ের অভাবে ফরজের আগে এই সুন্নতগুলো আদায় করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে নামাজের ওয়াক্ত থাকাবস্থায় সেই সুন্নতগুলো কীভাবে আদায় করতে হবে, তা নিয়ে ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যদি কারও ফজরের দুই রাকাত সুন্নত ফরজের আগে পড়া সম্ভব না হয়, তবে ফরজ নামাজের পরপরই সূর্যোদয়ের আগে তা পড়া যাবে না। এর কারণ হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের ফরজের পর থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত যেকোনো নফল বা সুন্নত নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন (বুখারি, ৫৮৮)। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো, সূর্যোদয়ের পর যখন মাকরূহ সময় পার হয়ে যাবে, তখন সেই ছুটে যাওয়া সুন্নত পড়ে নিতে হবে। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) সূর্যোদয়ের পর তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।
জোহরের চার রাকাত সুন্নত যদি ফরজের আগে পড়া না হয়, তবে ফরজ নামাজের পর এবং পরবর্তী দুই রাকাত সুন্নতের পর তা আদায় করে নেওয়া যাবে। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) জোহরের আগের চার রাকাত পড়তে না পারলে তা ফরজের পর আদায় করতেন (জামে তিরমিযী, বর্ণনা ৪২৬)। তবে মনে রাখতে হবে, জোহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগেই এই সুন্নত সম্পন্ন করতে হবে।
সাধারণ নিয়ম হলো, ফজর ব্যতীত অন্য কোনো ওয়াক্তের সুন্নত যদি সেই নির্দিষ্ট ওয়াক্তে পড়া না হয়, তবে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর আর তা কাজা করা যায় না। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, সুন্নতের সময় পার হয়ে গেলে তার কাজা নেই (আল-মাবসুত, ১/১৬১)। তবে ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) ফজরের সুন্নতের ক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের পর তা আদায় করাকে পছন্দনীয় বলেছেন।
ইবাদতের ক্ষেত্রে নিয়ম ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব অপরিসীম। সুন্নতে মুআক্কাদা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া অনুচিত। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বা ভুলে গেলে উপরে বর্ণিত নিয়মানুযায়ী তা আদায় করে নেওয়া আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সুন্নতের অনুসরণের অন্তর্ভুক্ত।
এ জাতীয় আরো খবর..